রাজশাহীতে দ্রুত ইপিজেড স্থাপন ও স্বাস্থ্যসেবা আধুনিকায়নের অঙ্গীকার ডা. জাহাঙ্গীরের

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী অঞ্চলে শিল্পায়ন ও ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে দ্রুত একটি রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে নগরীর পশ্চিম বুধপাড়া, কড়ইতলা মোড় ও বউ বাজার এলাকায় গণসংযোগকালে তিনি এ কথা বলেন।

ডা. জাহাঙ্গীর বলেন, রাজশাহী একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা নগরী হলেও বর্তমানে এটি বেকারত্বের নগরীতে পরিণত হয়েছে। প্রতিবছর হাজার হাজার শিক্ষিত তরুণ বের হলেও তাদের জন্য কর্মসংস্থান নেই। দেশের বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক ইপিজেড থাকলেও এই অঞ্চলে কোনো ইপিজেড না থাকা দুঃখজনক।

তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, নির্বাচিত হলে দ্রুত ইপিজেড প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ নিশ্চিত করা হবে। বিসিক শিল্পনগরী প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, প্রকৃত উদ্যোক্তারা সেখানে সঠিক সময়ে প্লট বরাদ্দ পাচ্ছেন না। তিনি বিসিককে কার্যকর করার পাশাপাশি রাজশাহীর হাইটেক পার্ককে উৎপাদনমুখী করার ওপর জোর দেন।

স্বাস্থ্য খাতের বিষয়ে ডা. জাহাঙ্গীর বলেন, প্রতি জেলায় একটি করে বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকে চিকিৎসার জন্য আর ঢাকা বা বিদেশে যেতে হবে না।

তিনি আরো বলেন, রাজশাহীতে শিশু হাসপাতালের ভবন নির্মাণ হলেও জনবল সংকটে তা এখনো চালু হয়নি। প্রয়োজনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চিকিৎসকরা বিনা পারিশ্রমিকে সেখানে সেবা দিতে প্রস্তুত রয়েছেন। দ্রুত জনবল নিয়োগ দিয়ে শিশু হাসপাতাল চালুর দাবি জানান তিনি।

এছাড়া রাজশাহীতে নতুন একটি সদর হাসপাতাল স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরে ডা. জাহাঙ্গীর বলেন, ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন এলাকায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নামে থাকা প্রায় নয় বিঘা জমিতে পূর্বের আলজ হোস্টেল অপসারণ করে সেখানে হাসপাতাল চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে। এই হাসপাতাল চালু হলে নগরী ও আশপাশের এলাকার মানুষ ঘরের কাছেই উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবেন।

তিনি আরও বলেন, রাজশাহীতে নির্মাণাধীন মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ দ্রুত শেষ করে তা কার্যকর করতে হবে। এতে একদিকে দক্ষ চিকিৎসক তৈরি হবে, অন্যদিকে আধুনিক হাসপাতাল সেবাও এই অঞ্চলে চালু হবে। বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে ডা. জাহাঙ্গীর বলেন, বেসরকারি ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর চিকিৎসা ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনতে হবে। চিকিৎসাসেবার মূল্য যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, রাজশাহী অঞ্চলের উন্নয়নে বরাদ্দকৃত বাজেট বর্তমানের তুলনায় ছয় থেকে আট গুণ পর্যন্ত বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাজশাহীতে স্বাস্থ্যসেবা, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

গণসংযোগকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। বউ বাজার এলাকার ব্যবসায়ী আনোয়ার ইসলাম বলেন, আমরা অনেক পরিবর্তন দেখেছি, এবার সৎ ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্বের হাতে শাসনভার দেখতে চাই। বাজার করতে আসা গৃহিণী সুলতানা পারভিন বলেন, আমরা চাই ইসলামপন্থী নেতৃত্ব আসুক, যারা দুর্নীতিরোধে কঠোর হবে এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ সমুন্নত রাখবে। গণসংযোগকালে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *