রাজশাহী হাসপাতালে শিশুদের মৃত্যু নিয়ে স্বাস্থ্য সচিবের দুঃখ প্রকাশ

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) জন্য অপেক্ষাধীন থাকতে থাকতে শিশুদের মৃত্যু নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী। মঙ্গলবার দুপুরে রামেক হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি কিছু সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করেন।

সচিব বলেন, ‘রাজশাহীতে আমাদের সন্তানরা, আমাদের বাচ্চারা, আপনারা যেভাবে তুলে ধরেছেন, সেই মৃত্যুর জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি। কোনো মৃত্যুই কারও জন্য কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা এটার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। এখানে আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল।’

উল্লেখ্য, রামেক হাসপাতালে শিশুদের জন্য মাত্র ১২টি আইসিইউ বেড আছে। এই আইসিইউতে একটি বেডের জন্য সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুদের অপেক্ষায় থাকতে হয়। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন কোনো শিশু মারা গেলে কিংবা কিছুটা সুস্থ হলে তাদের ডাক পড়ে। সিরিয়াল দিলে ৩০ থেকে ৫০ জনের পর শিশুদের আইসিইউতে নিতে ডাক আসে। এই অবস্থায় এখন শিশুদের সাধারণ অসুখের পাশাপাশি ছোঁয়াচে রোগ হামের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। এতে আইসিইউর চাহিদা আরও বেড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

গত ১১ মার্চ থেকে ২২ মার্চ পর্যন্ত আইসিইউর অপেক্ষায় থাকা ৩৩ শিশু মারা যায়। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে তোলপাড় শুরু হয়। বিষয়টি জানতে পেরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন গত ২৮ মার্চ এক অনুষ্ঠানে মন্তব্য করেন, ‘হাসপাতালের পরিচালক আমাদের জানাননি যে তার কাছে ভেন্টিলেটর নেই। তাকে ফাঁসির কাষ্ঠে চড়ানো উচিত।’

মঙ্গলবার এই হাসপাতাল পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস। তারা সার্বিক বিষয় নিয়ে সকালে হাসপাতালের কর্মকর্তা ও চিকিৎসকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এরপর হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও আইসিইউ পরিদর্শন করেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সচিব।

তিনি জানান, ঢাকা থেকে বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় তারা সাতটি ভেন্টিলেটর এনেছেন। এগুলো পরিস্থিতি মোকাবিলায় কিছুটা হলেও সহায়ক হবে বলে তারা মনে করছেন। এর পাশাপাশি সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত নয় এমন শিশুদের আইসিইউ প্রয়োজন হলে তারা রাজশাহী হার্ট ফাউন্ডেশনে পাঠানোরও পরিকল্পনা করেছেন। সেখানেও আইসিইউ সাপোর্ট পাওয়া যাবে।

এছাড়া রাজশাহী শিশু হাসপাতাল, সদর হাসপাতাল ও বক্ষব্যাধি হাসপাতালসহ যে সমস্ত হাসপাতালের অবকাঠামো আছে সেগুলো সচল করার উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনার কথাও জানান সচিব। আর এ জন্য মঙ্গলবারই তিনি হাসপাতালগুলো পরিদর্শন করবেন বলে জানিয়েছেন।

তিনি জানান, তিন মাসের মধ্যে আংশিকভাবে রাজশাহী শিশু হাসপাতাল চালু করব। সেখানে প্রথমে আউটডোর সেবা শুরু হবে এবং আগামী অর্থবছরে অন্যান্য সেবাগুলোও চালু হবে।

সচিব বলেন, বিগত সময়ে স্বাস্থ্য কর্মীদের আন্দোলনের কারণে হামের টিকা পায়নি শিশুরা। মায়েরা হয়ত যখন গেছে টিকা দিতে তখন স্বাস্থ্যকর্মীদের পায়নি। এ জন্য এর প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। ইতোমধ্যে ক্রয় কমিটি ৬০৪ কোটি টাকা অনুমোদন করেছে টিকা কেনার জন্য। আমরা টাকাও দিয়ে দিয়েছি। দ্রুতই শিশুদের হামসহ প্রয়োজনীয় টিকা প্রয়োগ শুরু হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *