
স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মহানগর গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), পবা, চন্দ্রিমা ও কাশিয়াডাঙ্গা থানা পুলিশ পৃথক পৃথক মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে ইয়াবা ও ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার, মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ জব্দ এবং নারীসহ ৮ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ জানায়, সোমবার (১৭ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৯ টার দিকে মহানগর গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ বোয়ালিয়া থানার মিরেরচর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে একই গ্রামের মো: বাবলুর ছেলে মো: রাসেল (৩২)-কে গ্রেপ্তার করে। এসময় তার হেফাজত থেকে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা ১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
মহানগর গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ একই তারিখ রাত আনুমানিক পৌনে ৯টার দিকে বেলপুকুর থানার ভড়ুয়াপাড়া গ্রামের মো: হারার মেয়ে ও মো: ফজলুর স্ত্রী মোসা: রাজিয়া বেগম (৪১) এর বসতবাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে রাজিয়াকে গ্রেপ্তার করে। এসময় তার হেফাজত থেকে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা ১০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। সেইসাথে মাদক বিক্রির নগদ ১ হাজার ৫১০ টাকা জব্দ করা হয়।
এছাড়াও একই তারিখ রাত আনুমানিক ৯ টার দিকে পবা থানা পুলিশ নওহাটা বাজার এলাকার মৃত আবু বক্করের ছেলে মো: আব্দুর রহমান সবুজ (৩০) এর বসতবাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে সবুজ ও একই থানার শ্রীপুর গ্রামের মৃত আব্বাস আলীর ছেলে বাবু (৪০)-কে গ্রেপ্তার করে। এসময় সবুজের হেফাজত থেকে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা ১৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং জুয়া খেলার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ৫১টি অনলাইন জুয়া/বেটিং অ্যাপস ও ৭টি জি-মেইল আইডিসহ ১টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। এছাড়াও বাবুর হেফাজত থেকে ১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার ও জুয়া খেলার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ৫টি অনলাইন জুয়া/বেটিং অ্যাপস ও ১টি জি-মেইল আইডিসহ ১টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
এছাড়াও একই তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক পৌনে ৭ টার দিকে চন্দ্রিমা থানা পুলিশ মেহেরচন্ডী মধ্যপাড়া এলাকার মো: আ: রাজ্জাকের ছেলে মো: সাকিব হোসেন (২৮)- এর বসতবাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে সাকিব, একই গ্রামের মো: মুকুল আলীর ছেলে মো: সোহাগ (২২) এবং মো: মোক্তার আলীর ছেলে মো: রেজানুর রহমান রেজান (২৫)-কে গ্রেপ্তার করে। এসময় সাকিবের হেফাজত থেকে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা ৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও সোহাগের হেফাজত থেকে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা ৩ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, অপর আসামি রেজান দীর্ঘদিন ধরে সাকিব ও সোহাগের সহযোগী হিসেবে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। উল্লেখ্য, আসামি সাকিবের বিরুদ্ধে চন্দ্রিমা থানায় ৩টি মাদক ও ২টি পেনাল কোড আইনে মামলা রয়েছে।
অপরদিকে, গত ১৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখ আনুমানিক পৌনে ১২টার দিকে কাশিয়াডাঙ্গা থানা পুলিশ গোলজারবাগ গুড়িপাড়া এলাকায় বসবাসরত রাজশাহী জেলার তানোর থানার ধানতৈর গ্রামের মো: জারজিস আলীর ছেলে মো: শহিদুল ইসলাম শহিদ ওরফে জাফর (৪৮) এর বর্তমান বসতবাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে জাফরকে গ্রেপ্তার করে। এসময় তার হেফাজত থেকে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা ৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উল্লেখ্য যে, আসামি জাফরের বিরুদ্ধে আরএমপি’র বিভিন্ন থানায় ৪টি ও নাটোর জেলার সদর থানায় ১টি মাদক মামলা রয়েছে।
এছাড়াও একই তারিখ আনুমানিক পৌনে ১০ টার দিকে কাশিয়াডাঙ্গা থানা পুলিশ আর্দশপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে দামকুড়া থানার ধুতরাবন গ্রামের মো: জিয়ারুল হকের ছেলে মো: রাব্বিল হোসেন ওরফে রাব্বি (২৬) পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কৌশলে পালিয়ে যায়। এসময় তার ফেলে যাওয়া বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা ২০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উল্লেখ্য, পলাতক আসামির বিরুদ্ধে রাজপাড়া থানায় ২টি মাদক মামলা রয়েছে।
আসামিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ও জুয়া আইনে পৃথক পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়াও পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

