
স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম বজলুর রশীদ বলেছেন, আমরা তো অনেক ভুগেছি, আমরা সবাই ভুক্তভোগী। কিন্তু আমরা চাই, আগামীর বাংলাদেশ, আগামী প্রজন্মের সন্তানরা যেন আর কষ্টে না ভোগে, তারা যেন আমাদের মতো বঞ্চিত না হয় তার জন্য গণভোট।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নগরীর শিশু একাডেমি চত্বরে গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ এ ভোটকেন্দ্রে গমন, ভোট প্রদান ও গণভোটে অংশগ্রহণের জন্য সাধারণ ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টির লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত ‘গণভোট ও নির্বাচনে বাংলাদেশ বেতার’ শীর্ষক কমিউনিটি ব্রডকাস্ট অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ বেতারের রাজশাহী কেন্দ্র এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে।
বিভাগীয় কমিশনার বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে এক ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে এবং এই ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটানোর জন্য নায়করা অপেক্ষা করছে। আমরা সবাই গণভোটে অংশ নেব এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটে সিল দেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশে চিরদিনের জন্য একটি নতুন দরজা খুলে যাবে। সেই দরজার চাবি আপনার হাতে। এইজন্যই বলা হচ্ছে দেশের চাবি আপনার হাতে। আমরা একটা চাবি নিয়ে অপেক্ষা করছি, যে চাবি দিয়ে আমরা অনাগত বাংলাদেশকে খুলে দিতে চায়, আমার অনাগত সন্তানের ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে চাই, হানাহানি রক্তপাত বন্ধ করতে চাই, ক্ষমতা জবরদখলকে বন্ধ করে দিতে চাই, রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম যেন আর না হয় সেটি নিশ্চিত করতে চাই। এইজন্য গণভোটটি আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, পূর্বে অনেকবার নির্বাচন হয়েছে, তখন আমরা দেখেছি জনগণের হাতে ক্ষমতা ছিল না। জনগণের দেশ, জনগণের রাষ্ট্র, সেই জনগণের হাতেই ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্যই গণভোটের আয়োজন। এইজন্য আমরা এত কথা বলছি।
বজলুর রশীদ বলেন, জুলাই ২৪-এ যে ছেলে-মেয়েরা রক্ত দিয়েছে, তাদের উদ্দেশ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ তৈরি। সেই বাংলাদেশ তৈরি করার জন্য জুলাই সনদ রচিত হয়েছে। এই জুলাই সনদে সবাই সম্মতিও দিয়েছে। কিছু কিছু বিষয় অসম্মতি আছে। এই কারণেই আমরা জনগণের কাছে যাচ্ছি গণভোটের জন্য। আমরা চাই পাঁচ বছর পরপর যেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠিত থাকে। এটি যেন কেউ চাইলেই বন্ধ করে দিতে না পারে। যদি বন্ধ করতে চাই তবে মানুষের কাছে আবার সম্মতি নিতে হবে গণভোটের মাধ্যমে। আমাদের যে সমস্ত শাসনতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান আছে সেখানে নিরপেক্ষ লোককে বসাতে চাই।
তিনি আরও বলেন, গণভোট আমাদের সবার ভোট। আমরা একটি সুন্দর সংবিধান রচনা করব। যে সংবিধান চাইলেই কেউ ছুঁড়ে ফেলে দিতে পারবে না, যে সংবিধান চাইলেই কেউ পরিবর্তন করতে পারবে না, যে সংবিধান হবে রাষ্ট্রের এবং জনগণের। এসময় তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে গণভোটের এই বার্তা সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক এ এস এম জাহীদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, আরএমপি কমিশনার ড. মো. জিল্লুর রহমান এবং আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বেতারের রাজশাহী কেন্দ্রের আঞ্চলিক পরিচালক কিশোর রঞ্জন মল্লিক। বেতারের কলাকুশলীসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা শেষে একই স্থানে বেতারের শিল্পীরা এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে।

