তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন, সেবা পেতে ভোগান্তি

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহমেদের দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন এবং নিয়মিত অফিসে অনুপস্থিতি নিয়ে কৃষক ও সেবা প্রত্যাশীদের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে মিটিং, প্রশিক্ষণ ও দাপ্তরিক কাজের অজুহাতে তিনি প্রায়ই অফিসের বাইরে থাকেন। ফলে প্রয়োজনীয় কৃষি পরামর্শ ও সেবা নিতে এসে অনেক কৃষককে ফিরে যেতে হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে সাইফুল্লাহ আহমেদ প্রায় সাত বছর ধরে একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি কয়েকজন কৃষক অভিযোগ করেন, গুরুত্বপূর্ণ কৃষি পরামর্শ, সার-বীজ সংক্রান্ত তথ্য এবং বিভিন্ন সরকারি কৃষি প্রণোদনা বিষয়ে জানতে অফিসে গিয়ে অনেক সময় কর্মকর্তাকে পাওয়া যায় না।

উপজেলার এক কৃষক আব্দুল হান্নান বলেন, “আমরা জমির বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কৃষি অফিসে যাই। কিন্তু অনেক সময় কর্মকর্তা সাহেবকে পাই না। দূর-দূরান্ত থেকে এসে ফিরে যেতে হয়। এতে সময় ও অর্থ দুটোই নষ্ট হয়।”

আরেক কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, “কৃষকদের জন্য কৃষি অফিস সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। কিন্তু দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে না পেলে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অফিসে এসে কয়েকবার ফিরে গেছি।”

স্থানীয় কৃষক আনারুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য কর্মকর্তার উপস্থিতি প্রয়োজন। তিনি অফিসে থাকলে অনেক বিষয় তাৎক্ষণিক সমাধান পাওয়া যায়।”

তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহমেদ বলেন, “আমি সরকারি দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবেই বিভিন্ন মিটিং, প্রশিক্ষণ ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করি। অনেক সময় অফিসের বাইরে থাকতে হয়। তবে কৃষকদের সেবা যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করেন। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়।”

এ বিষয়ে স্থানীয় কয়েকজন সচেতন নাগরিকের দাবি, কৃষি বিভাগের সেবার মান আরও বাড়াতে কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া উচিত বলেও তারা মনে করেন।

তবে কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, কর্মকর্তাদের বিভিন্ন সরকারি সভা, প্রশিক্ষণ ও মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার কারণে অফিসের বাইরে থাকতে হয়। এরপরও কৃষকদের সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *