নগরীতে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে নারীসহ ৭ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের চন্দ্রিমা, পবা, রাজপাড়া ও কাশিয়াডাঙ্গা থানা পুলিশের পৃথক পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে ট্যাপেন্টাডল ও ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার ও মাদক বিক্রির নগদ অর্থ জব্দ করা হয়েছে। এ সময় নারীসহ ৭ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ জানায়, বুধবার (১২ আগস্ট) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে চন্দ্রিমা থানা পুলিশ শিরোইল কলোনী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে একই গ্রামের মৃত মহসিন আলীর ছেলে মো: তসলিম (৩৮) এবং শফিকুল ইসলাম সজলের ছেলে নাহিনা হাসান নিলয় (২১)-কে গ্রেপ্তার করে। পরে তসলিমের দোকানে অভিযান পরিচালনা করে তসলিমের হেফাজত থেকে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা ৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক বিক্রির নগদ ৯১ হাজার টাকা জব্দ করা হয়। অপর আসামি নিলয়ের হেফাজত থেকে ২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উল্লেখ্য, আসামি তসলিমের বিরুদ্ধে বোয়ালিয়া ও চন্দ্রিমা থানায় পৃথক ২টি মাদক মামলা এবং আসামি নিলয়ের বিরুদ্ধে চন্দ্রিমা থানায় ১টি মাদক মামলা ও সিএমএম আদালত, রাজশাহীতে ১টি নন জিআর মামলা রয়েছে।

অন্যদিকে একই তারিখ দুপুর আনুমানিক পৌনে ৩টার দিকে চন্দ্রিমা থানা পুলিশ হাজরাপুকুর নিউ কলোনী এলাকার মো: আজিজুল হকের মেয়ে ও মো: ওয়াকিল আহম্মেদের স্ত্রী মোসা: শ্যামলী বেগম (৪৪)- এর বসতবাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মোসা: শ্যামলী বেগম (৪৪) এবং মতিহার থানার কাজলা ফূলতলা গ্রামের মো: লিটনের ছেলে মো: রাহুল ইসলাম ওরফে মুন্না (২৫)-কে গ্রেপ্তার করে। এসময় শ্যামলীর বসতবাড়ি তল্লাশি করে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা ১৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। সেইসাথে মাদক বিক্রির নগদ ২২ হাজার ১৩০ টাকা জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আসামি রাহুল দীর্ঘদিন ধরে শ্যামলী’র সহযোগী হিসেবে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। আসামি শ্যামলীর বিরুদ্ধে আরএমপি’র চন্দ্রিমা থানায় ২টি পেনাল কোড আইনে এবং The Negotiale Instruments Act, 1881-এ ১টি সিআর মামলা রয়েছে। অপর আসামি মুন্নার বিরুদ্ধে পাকশী রেলওয়ে জেলার রাজশাহী রেলওয়ে থানায় ১টি পেনাল কোড আইনে মামলা রয়েছে।

এছাড়াও একই তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক সোয়া ৭ টার দিকে পবা থানা পুলিশ হাটগোদাগাড়ী বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে সারাংপুর গ্রামের মো: পাতান আলীর ছেলে মো: মাইনুল ইসলাম রনি (৩৮)-কে গ্রেপ্তার করে। এসময় তার হেফাজত থেকে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা ৬ পিস ট্যাপেন্টাডল ও ৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উল্লেখ্য, গ্রেপ্তারকৃত আসামি রনির বিরুদ্ধে পবা থানায় ১টি মাদক মামলা রয়েছে।

এদিকে একই তারিখ রাত আনুমানিক ৮ টার দিকে রাজপাড়া থানা পুলিশ দাশপুকুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ডিঙ্গাডোবা গ্রামের মো: শাকিল হোসেন মিঠুর ছেলে মো: রায়হান ইসলাম অনন্ত ওরফে সোহান (২০)-কে গ্রেপ্তার করে। এসময় তার হেফাজত থেকে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা ১০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

তাছাড়াও গত ১১ আগস্ট তারিখ রাত আনুমানিক সোয়া ১১ টার দিকে কাশিয়াডাঙ্গা থানা পুলিশ হড়গ্রাম নতুনপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে রাজপাড়া থানার বহরমপুর গ্রামের মো: আফতাব আলীর ছেলে মো: আব্দুল সাত্তার (৩৮)-কে গ্রেপ্তার করে। এসময় তার হেফাজত থেকে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা ৩ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

আসামিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক পৃথক মামলা রুজু করে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *