অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে জেন্ডারভিত্তিক তথ্যের বিকল্প নেই : ড. মনসুর রহমান

স্টাফ রিপোর্টার : অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে জেন্ডারভিত্তিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মনসুর রহমান। তিনি বলেন, নারীদের ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বাস্তব চাহিদা, অভিজ্ঞতা এবং উন্নয়ন-সংক্রান্ত প্রয়োজন নীতিনির্ধারণে যথাযথভাবে প্রতিফলিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে মানসম্মত ও জেন্ডারভিত্তিক তথ্য উৎপাদন ও ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

সোমবার (১৩ জুলাই) রাজশাহীতে জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘এসডিজি স্থানীয়করণে জেন্ডার ডিসঅ্যাগ্রিগেটেড ডাটা জেনারেশন’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. মনসুর রহমান বলেন, জাতীয় পরিসংখ্যান কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্থানীয় পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও প্রতিবেদন প্রণয়ন জোরদার করা গেলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের অগ্রগতি আরও কার্যকরভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়া হবে আরও তথ্যনির্ভর, অংশগ্রহণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা স্থানীয়করণে জেন্ডারভিত্তিক তথ্যের গুরুত্ব ও ব্যবহারিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইউনাইটেড নেশনস অফিস ফর প্রজেক্ট সার্ভিসেস (ইউএনওপিএস) বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) যৌথভাবে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে। বাংলাদেশে এসডিজি স্থানীয়করণের গতি ত্বরান্বিত করার প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত এ উদ্যোগের মাধ্যমে এসডিজি-৫ (জেন্ডার সমতা) ও এসডিজি-১৬ (শান্তি, ন্যায়বিচার ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান) বাস্তবায়নে কার্যকর একটি ‘বাংলাদেশ মডেল’ গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান এবং ইউএনওপিএসের পার্টনারশিপ অ্যাডভাইজর শিরিন সুলতানা।

কারিগরি অধিবেশন পরিচালনা করেন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর এসডিজি সেলের ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন। তিনি জেন্ডার-সংশ্লিষ্ট এসডিজি সূচক, তথ্যের উৎস এবং স্থানীয় পর্যায়ে জেন্ডারভিত্তিক তথ্য ব্যবহারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

প্রশিক্ষণে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অংশীজন অংশ নেন।

কর্মসূচিতে স্থানীয় পর্যায়ে জেন্ডারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও ব্যবহার জোরদারের মাধ্যমে প্রমাণভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, নির্ভরযোগ্য ও জেন্ডার-সংবেদনশীল তথ্য ছাড়া টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে সরকারের জাতীয় অগ্রাধিকার এবং এসডিজি-৫ ও এসডিজি-১৬–সংশ্লিষ্ট সূচক বাস্তবায়নে স্থানীয় পর্যায়ের তথ্যের গুণগত মান উন্নয়ন জরুরি। পাশাপাশি নারী অংশগ্রহণ, সুশাসন, সেবায় প্রবেশাধিকার, জবাবদিহিতা এবং জেন্ডার-সংবেদনশীল নীতিনির্ধারণে তথ্যের গুরুত্বও তুলে ধরা হয়।

উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা স্থানীয় পর্যায়ে জেন্ডারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহের চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

আয়োজকদের আশা, এ উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে জেন্ডারভিত্তিক তথ্য সংরক্ষণ ও প্রতিবেদন তৈরির সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে জাতীয় এসডিজি ট্র্যাকার সমৃদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯০ জন ‘এসডিজি ডাটা চ্যাম্পিয়ন’ তৈরির লক্ষ্য বাস্তবায়নেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *