স্থায়ী নিয়োগসহ ছয় দফা দাবিতে রাজশাহীতে কর্মচারীদের বিভাগীয় সমাবেশ

স্টাফ রিপোর্টার : সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে দৈনিক মজুরি ভিত্তিক ও মাস্টার রোলে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ীকরণ ও নিরাপত্তার দাবিতে রাজশাহীতে বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশ থেকে আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় শ্রমিক-কর্মচারীদের হস্তান্তর বন্ধ এবং ‘দৈনিক ভিত্তিক সাময়িক শ্রমিক নিয়োজিতকরণ নীতিমালা-২০২৫’ বাতিলসহ ছয় দফা দাবি জানানো হয়।

শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে রাজশাহী নগরীর নাইস কনভেনশন সেন্টারে বাংলাদেশ দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারী সমিতি রাজশাহী বিভাগের আয়োজনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে রাজশাহী বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দৈনিক মজুরি ও মাস্টার রোলে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারী এবং সংগঠনের নেতারা অংশ নেন। সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারী সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব মো. মিজানুর রহমান বাদল। তিনি বলেন, দৈনিক মজুরি ও মাস্টার রোলের কর্মচারীরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত কার্যক্রম সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। অথচ দীর্ঘদিন কাজ করার পরও তাঁদের চাকরির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে তাঁদের অন্য প্রক্রিয়ায় হস্তান্তর করা হলে চাকরির নিরাপত্তা আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। তাই এই প্রক্রিয়া বন্ধ করে স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের স্থায়ী নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে।

রাজশাহী ওয়াসা কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জিয়াউর রহমান। তিনি বলেন, অনেক শ্রমিক-কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে অস্থায়ী ভিত্তিতে কাজ করতে করতে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা অতিক্রম করেছেন। এ অবস্থায় তাঁদের ক্ষেত্রে বয়স শিথিল করে স্থায়ী করার উদ্যোগ নিতে হবে। নীতিমালার নামে কর্মচারীদের চাকরি অনিশ্চিত করার কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয়।

সমাবেশে ছয় দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—আউটসোর্সিং ব্যবস্থা বন্ধ, ‘দৈনিক ভিত্তিক সাময়িক শ্রমিক নিয়োজিতকরণ নীতিমালা-২০২৫’ বাতিল এবং বয়স শিথিল করে কর্মরত কর্মচারীদের স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানে স্থায়ীকরণ বা আত্তীকরণ; বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয় ও বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি পুনর্নির্ধারণ এবং বার্ষিক ন্যূনতম ১০ শতাংশ হারে বেতন বৃদ্ধি নিশ্চিত করা; শ্রম আইন অনুযায়ী উৎসব ভাতা, বৈশাখী ভাতা, ওভারটাইম, চিকিৎসা ভাতা, বাড়িভাড়া ভাতা, শিক্ষা ভাতা, ঝুঁকি ভাতা ও রেশন সুবিধা চালু করা। এ ছাড়া নারী কর্মচারীদের জন্য মেডিকেল সনদের ভিত্তিতে ১৮০ দিনের সবেতন মাতৃত্বকালীন ছুটি, সাপ্তাহিক ছুটি ও বাৎসরিক ছুটির নিশ্চয়তা; যথাযথ তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়া অন্যায় চাকরিচ্যুতি বন্ধ এবং আগে চাকরিচ্যুত কর্মচারীদের পুনর্বহাল; ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের অধিকার নিশ্চিত করে সব কর্মচারীকে শ্রম আইনের পূর্ণাঙ্গ সুরক্ষার আওতাভুক্ত করার দাবি জানানো হয়।

সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম শিশির, আশিকুর রহমান রাসেল, সাইফুল ইসলাম, তাহেরা আক্তার শান্তি, সাথী আক্তার, রফিকুল ইসলাম রফিক, মনিরুজ্জামান পিয়াস, ময়মনসিংহ বিভাগের আহ্বায়ক আব্দুর রাসেল, সদস্যসচিব তোফাজ্জল হোসেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ফৈরদাউস আহমেদ ও সাইদুর রহমান, ঢাকা বিভাগের সদস্য সোহাগ রানা ও সুমন মিয়া প্রমুখ।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *