
স্টাফ রিপোর্টার, বাঘা : সন্ত্রাসীদের অভয়াশ্রম হিসেবে পরিচিত রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নের চরাঞ্চল। চরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখানে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের দাবি অবশেষে বাস্তবায়নের পথে। রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনের সংসদ আবু সাইদ চাঁদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় চরবাসীর এই দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নের পথে বলে জানা গেছে।
বুধবার (২৭ মে) সরেজমিনে চরাঞ্চল পরিদর্শন করে এক মাসের মধ্যে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের আশ্বাস দেন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান আলী। সরেজমিনে তিনি চরের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দেখেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন।
ডিআইজি বলেন, “চরাঞ্চলে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপিত হলে অপরাধ দমন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে। দীর্ঘদিন ধরে যে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন চরএলাকার মানুষ। পুলিশ ফাড়িঁ স্থাপনে তাদের স্বস্থি ফিরে আসবে।” তবে অপরাধ নিয়ন্ত্রনে পুলিশের কাজে স্থানীয়দেরও সহযোগিতা করতে হবে।
সাংসদ আবু সাইদ চাঁদ বলেন, অতীতের ঘটনা ছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে গোলাগুলি, ডাকাতি ও নাশকতার ঘটনায় চরাঞ্চলের মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছিল। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে আমলে নিয়ে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজির সাথে কথা বলা হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা সমস্যা দুর করা হবে।
স্থানীয়রা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে গোলাগুলি, ডাকাতি ও নাশকতার ঘটনায় চরাঞ্চলের মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছিল। চকরাজাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধার সম্পাদক জগলু শিকদার বলেন, ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন ও দুর্গম হওয়ায় বাঘার চরাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে অপরাধীদের আস্তানা হিসেবে পরিচিত। পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের খবরে তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেরাজুল হক বলেন, নতুন ফাঁড়ি স্থাপিত হলে এই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরো উন্নতি হবে।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহীর পুলিশ সুপার নাইমুল হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ফকরুল হাসান বাবলু, সদস্য সচিব আশরাফ আলী মলিন, সদস্য মুখলেছুর রহমান মুকুল, সাবেক সাধারন সম্পাদক সুরুজ্জামান সুরুজ, বাঘা পৌর বিএনপির সভাপতি কামাল হোসেন, সাধারন সম্পাদক তফিকুল ইসলাম তফি, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম, এমদাদুল হক, রাজশাহী জেলা ছাত্র দলের আহবায়ক এসএম সালাউদ্দীন আহমেদ শামীম সরকার, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আমজাদ হোসেন, যুব দলের নেতা সালেহ আহমেদ সালাম, শফিকুল ইসলাম, সহিদুলসহ দলীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
উল্লেথ্য, গত ১১ মে রাজশাহীর বাঘা থানার সীমানা পার হয়ে ১৭৬টি গরু কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমানায় চলে যায়। আধিপত্য বিস্তার করে গরুগুলো ফেরত না দিয়ে নিজেদের দখলে নেয়। এতে দিশেহারা হয়ে পড়ে প্রকৃত মালিকরা। পরে বাঘা, লালপুর ও দৌলতপুর থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে ওই এলাকা থেকে গরুগুলো উদ্ধার করেন এবং মালিকদের নিকট হস্তান্তর করেন। গত ১৮ মে দিবাগত গভীর রাতে ইউনিয়নটির কালিদাসখালী চরে গোলাগুলির পর কালিদাসখালি গ্রামের সিদ্দিক বেপারীর ছেলে স্বপন ব্যাপারি নিখোঁজ হন। এখনো তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।

