টাঙ্গাইলে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা: আহতদের খোঁজ নিতে রামেকে ডিসি

স্টাফ রিপোর্টার : টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে সংঘটিত মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার খোঁজ নিতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে গেছেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি হাসপাতালে যান।

এ সময় তিনি দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তাদের চিকিৎসা কার্যক্রম সম্পর্কে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন। জেলা প্রশাসক হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে গিয়ে আহতদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি তাদের চিকিৎসা, শারীরিক অবস্থা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়ে জানতে চান। আহতদের স্বজনদের সঙ্গেও তিনি কথা বলেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম জানান, গত ২৪ মে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ১৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এ ঘটনায় আহত কয়েকজনের মধ্যে চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে তাঁরা চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন এবং শঙ্কামুক্ত বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয়ভার সরকারের পক্ষ থেকে বহন করা হবে। চিকিৎসাসেবায় যেন কোনো ঘাটতি না থাকে, সে বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, এমন দুর্ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও মর্মান্তিক। ঈদের আগে সড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। এ সময় চালক, যাত্রী, পরিবহন মালিক এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও সতর্ক থাকতে হবে। সড়কে শৃঙ্খলা না থাকলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক জানান, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজশাহী জেলা প্রশাসন সড়ক নিরাপত্তা ও যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে মোবাইল টিম ও ভিজিল্যান্স টিম গঠন করা হয়েছে। এসব টিম সড়কের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে।

তিনি বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেড়ে যায়। এ কারণে মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যত্রতত্র গাড়ি থামানো, সড়কে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা, অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন এবং বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসক জানান, সড়কের ওপর বা সড়কের পাশে কোনোভাবেই গবাদিপশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না। এতে যানজট ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সার্বক্ষণিক নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইন অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, ঈদের সময় সড়ক ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। সাধারণ মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করাই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।

এ সময় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পিকে এম মাসুদ উল ইসলাম জেলা প্রশাসককে আহতদের চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করেন। হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা জানান, আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের শারীরিক অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, দুর্ঘটনায় আহত হয়ে আসা রোগীদের চিকিৎসায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জরুরি বিভাগ, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

জেলা প্রশাসক আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রশাসন আহতদের পাশে আছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *