জঙ্গলের ভেতর মিউমিউ করছিল বিড়াল ছানাটি

নিয়ামতপুর প্রতিনিধি : কয়েকটা বস্তা দড়ি দিয়ে বেঁধে ডান হাতের মধ্যমা আঙুলে ঝুলিয়েছেন তিনি, সেই হাতেই মুঠোফোন। বাম হাতের মধ্যমা আঙুলে পলিথিনে বাঁধা দড়ি, বগলে আবার পুঁইশাক। এতকিছু নেওয়ার পরও বাম হাতে সন্তর্পণে ধরে আছেন একটা বিড়াল ছানা। মিউ মিউ শব্দ করছিল।
গত রোববার সন্ধ্যার কিছু পরে নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার ভাবিচা বাজারে এমন এক দৃশ্য দেখা গেল।

হাতে বিড়াল ছানা দেখে এই প্রতিবেদক এগিয়ে যান ওই ব্যক্তির কাছে। তাঁকে থামিয়ে নাম জানতে চাইতে বললেন, তাঁর মো. ইয়ারবক্স। বাড়ি উপজেলার রুদ্রপুর হঠাৎপাড়া গ্রামে। পেশায় তিনি কৃষক।

হাতের বিড়াল ছানার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সন্ধ্যার কিছুক্ষণ আগে ভাবিচা গ্রামের গ্রামীণ রাস্তার ধারে একটি জঙ্গলের ভেতর এই বিড়াল ছানাটি মিউ মিউ করছিল। জঙ্গলের এককোণায় বসেছিল। এদিক-ওদিক দেখছিল। বিড়াল ছানাটি দেখে খুব মায়া হলো। সন্ধ্যা হলে শিয়ালে নিয়ে চলে যেতে পারে। তাই নিয়ে আসলাম। বাড়িতে নিয়ে পুষবো।

তিনি আরও জানালেন, এর আগেও বাড়িতে অনেক বিড়াল পুষেছেন তিনি । বেশ কিছুদিন আগে পোষা বিড়ালটা মারা গেছে। তাই এই বিড়াল ছানাকে নিয়ে যাচ্ছেন। বাড়িতে রেখে পুষবেন। বাড়িতে একটা পোষা বিড়াল থাকলে অনেক উপকার হয়।

সেখানে উপস্থিত ছিলেন ভাবিচা গ্রামের বাসিন্দা গোপাল প্রামানিক। তিনি বলেন,
ছোট্ট এই বিড়াল ছানাকে জঙ্গল থেকে তুলে এনে নিজের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া অবশ্যই ভালো কাজ। বিড়ালটা বড় হলে রাতে জঙ্গল থেকে কারও বাড়িতে আশ্রয় নিতে পারতো। ছোট্ট এই বিড়াল ছানাটা সেটা পারবে না। বনজঙ্গল থাকলে শিয়ালে খেয়ে ফেলার সম্ভাবনা ছিল। উনি জঙ্গল থেকে তুলে এনে খুব ভালো কাজ করেছেন। ছোট্ট প্রাণীর প্রতি এমন মানবিক সদয় হওয়ায় উনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

একই গ্রামের বাসিন্দা দেবাশীষ মন্ডল বলেন, বিড়াল খুব শান্তশিষ্ট প্রাণী। বিড়ালেরা গ্রামাঞ্চলে বাড়িতে থেকে ইঁদুর খেয়ে গেরস্তের অনেক উপকার করে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *