পুঠিয়ার বানেশ্বরে ইটভাটার তাপ-ধোঁয়ায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি কৃষক দিশেহারা

স্টাফ রিপোর্টার, পুঠিয়া : রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর ইউনিয়নের দিঘলকান্দী গ্রামে একটি ইটভাটার তাপ ও কালো ধোঁয়ার কারণে আম, কলা-সহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ২০ এপ্রিল সোমবার সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মেসার্স এস বি এক্স ইউ টাটা’ নামে ওই ইটভাটাকে ঘিরে স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভাটাটির মালিক শাহাবুদ্দিন (পিতা: মৃত ছয়মুদ্দিন) দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় ভাটা পরিচালনা করে আসছেন। অভিযোগ, ভাটার তীব্র তাপ ও নির্গত কালো ধোঁয়ার প্রভাবে আশপাশের বিস্তীর্ণ কৃষিজমির ফসল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে চলতি মৌসুমে আম, কলা-সহ অন্যান্য ফলনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি কৃষকদের।

শুধু ফসলের ক্ষতিই নয়, ভাটার নিকটবর্তী একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিবেশও মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে উঠেছে। ধোঁয়া ও তাপের কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ। পাশাপাশি বর্ষাকালে ভাটার পাশের রাস্তা কাদা ও দূষণে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে, ফলে স্থানীয়দের দুর্ভোগ বাড়ছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বক্তব্য, বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রমে উৎপাদিত ফসল এভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তাঁরা আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন। পরিবেশের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এর আগে একই সমস্যায় প্রশাসনের দ্বারস্থ হলে ভাটা কর্তৃপক্ষ আংশিক ক্ষতিপূরণ দিলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি।

মাহি নামের একটি কৃষক জানায়, আমার নিজেরও দুই বিঘার মত কলার গাছ নষ্ট হয়ে গেছে ভাটার চারপাশ দিয়ে আম, কলা সহ বিভিন্ন মৌসুমী ফসলের ক্ষতি হয়েছে। আমরা প্রায় ২০ জন কৃষক মিলে ইউএনও অফিস এবং কৃষি অফিসে একটা অভিযোগ দায়ের করেছি।

মেহেদী হাসান স্বপ্ন তার ৪ বিঘা জমিতে আমের বাগান ছিলো ২০২৪ সালে এমন সমস্যার কারণে কিছু টাকা জরিমানা দিয়েছিলো। পরে আমের গাছ গুলো সব কেটে ফেলেছি। আর কিছু গাছ আছে সেগুলোর আম কাল হয়ে পড়ে যাচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে গ্রামবাসীরা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, ভাটার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ কিংবা প্রয়োজন হলে স্থানান্তরের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা জরুরি।

ভাটা মালিক, শাহাবুদ্দিন তার তার বক্তব্যে বলেন, কোন কৃষক আমার কাছে অভিযোগ নিয়ে আসেনি তবে আমি আমার চাচার মুখে শুনি তাকে নাকি অভিযোগ দিয়েছে ।

বানেশ্বর ব্লকের কৃষি কর্মকর্তা মোসাঃ শাহেদা খাতুন জানান, এখানে ভাটার কারণে আমবাগান কেটে ফেলা হয়েছে, ভাটার পাশ দিয়ে ৫০ বিঘার মত কলার বাগান থাকলেও ১৫-১৬ বিগা কলার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, আমি চাই এলাকার কৃষক তাদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ পাক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *