তীব্র দাবদাহে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ তানোরের জনজীবন, বিপাকে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর তানোর উপজেলায় চলমান তাপপ্রবাহের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিং জনজীবনে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি করেছে। দিন-রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য প্রায় বিলীন হয়ে গেছে, গভীর রাত পর্যন্ত অব্যাহত থাকছে গরমের তীব্রতা। এর মধ্যে বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহ পরিস্থিতিকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে বিশেষ করে মধ্যরাতের পর থেকে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়েছে। অনেক এলাকায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। এতে রাতের ঘুম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিশু ও শিক্ষার্থীরা পর্যাপ্ত ঘুম না পাওয়ায় সকালে স্কুলে যেতে হিমশিম খাচ্ছে।

তানোর উপজেলার শিবরামপুর ও আশপাশের এলাকায় সোমবার টানা প্রায় তিন ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

শিবরামপুর এলাকার বাসিন্দা আশিক রহমান বলেন, সকালে প্রায় ১২টার দিকে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর দুপুর ২টা পর্যন্ত আসেনি। আবার রাতেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। এই ভ্যাপসা গরমে থাকা একেবারেই অসহনীয় হয়ে উঠেছে।

একই এলাকার শ্রমিক রশিদ জানান, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে আমরা চরম ভোগান্তিতে আছি। অফিসে বিদ্যুৎ না থাকলে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। বাড়িতেও গরমে টেকা দায়। মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হলেও পরে ভ্যাপসা গরম আরও বেড়ে যায়, তার সঙ্গে বিদ্যুৎ না থাকলে পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে ওঠে।

এদিকে সামনে এসএসসি পরীক্ষা থাকায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে। অনেক শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে মোমবাতি বা বিকল্প আলো ব্যবহার করে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে, যা দীর্ঘসময় ধরে সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও জানিয়েছেন, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি কমে গেছে। এছাড়া ছোট-বড় কলকারখানায় উৎপাদন কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মুন্ডুমালা অফিসের লাইনম্যান শাহাদাত হোসেন জানান, এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৫.৮ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩.৩ মেগাওয়াট। ফলে লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। এ রিপোর্ট লেখার সময়ও বিদ্যুৎ ছিল না, যা বর্তমান পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা না হলে জনজীবনে ভোগান্তি আরও বাড়বে এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়বে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *