রাজশাহী মেডিকেলে হামের প্রাদুর্ভাব: বাড়ছে শিশু রোগীর চাপ, শয্যা সংকটে চরম ভোগান্তি

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী অঞ্চলে হামের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভাগের সবচেয়ে বড় সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫০ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. শাহিদা ইয়াসমিন জানান, বর্তমানে হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২৮০ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ২৮ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের জন্য নির্ধারিত ‘হাম কর্নার’ এবং সাধারণ শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।

ডা. শাহিদা আরও জানান, “আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে প্রায় ৬৫ শতাংশেরই বয়স ৬ মাসের নিচে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সাধারণত ৯ মাস বয়সে শিশুদের হামের টিকা দেওয়া হয়, কিন্তু তার আগেই বিপুল সংখ্যক শিশু আক্রান্ত হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।”

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মাসুদ উল আলম জানান, বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রোগী আসার সংখ্যা বেড়েছে। সীমিত আইসিইউ সুবিধা ও জনবল নিয়ে এই পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, ওয়ার্ডগুলোতে তিল ধারণের জায়গা নেই। নওগাঁ থেকে আসা সাগর হোসেন জানান, শয্যা না পেয়ে তিনি তার অসুস্থ শিশুকে নিয়ে হাসপাতালের বারান্দায় অবস্থান করছেন। তিনি বলেন, “বারান্দায় ঠিকমতো চিকিৎসা পাওয়া যাচ্ছে না, তার ওপর বৃষ্টির ভয় তো আছেই। টাকার অভাবে বেসরকারি হাসপাতালেও যেতে পারছি না।”

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসা শিউলি বেগম জানান, শয্যা না পেয়ে মেঝেতে এক জায়গায় ২-৩ জন শিশুকে গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে। কুষ্টিয়ার আসাদুল্লাহ অভিযোগ করেন, “জ্বর নিয়ে এসেছিলাম, এখন দেখছি বাচ্চার শরীরে হামের লক্ষণ। সব রোগীকে এক জায়গায় রাখায় সুস্থ বাচ্চা আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছে। প্রতিটি রোগের জন্য আলাদা ওয়ার্ড করা জরুরি।”

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সোমবার দুপুরে রামেক হাসপাতাল পরিদর্শনে আসেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, “জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।” ৯ মাস বয়সের আগেই শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ কেন বাড়ছে, তা খুঁজে বের করতে জরুরি গবেষণার দাবি জানান তিনি। এ সময় হাসপাতালের পরিচালক, শিশু বিভাগের প্রধানসহ অন্যান্য চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বিভাগের আটটি জেলায় এ পর্যন্ত অন্তত ৫০০ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৪২৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ১৩৭ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশুদের সুরক্ষায় সময়মতো টিকা প্রদান এবং কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *