তানোরে স্কুলের গেট বন্ধ করে তারকাঁটার বেড়া, ভোগান্তিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর তানোরে নির্বাচনের পরদিন একটি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। সোমবার সকাল ৯টার দিকে জুমারপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান গেটের সামনে তারকাঁটার বেড়া দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেন স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি রোকন উদ্দীন মোল্লা।

ঘটনার ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা প্রায় পাঁচ ঘণ্টা স্কুলের বাইরে অবস্থান করতে বাধ্য হন। পরে বাধ্য হয়ে অনেকে বাড়ি ফিরে যান, আবার কেউ কেউ বিকল্প পথে স্কুলে প্রবেশ করেন।

জানা গেছে, জুমারপাড়া গ্রামের মৃত ইয়াসিন মোল্লার ছেলে রোকন উদ্দীন মোল্লা মুন্ডুমালা-আমনুরা সড়কসংলগ্ন প্রায় ১১ ফুট জায়গা নিজের সম্পত্তি দাবি করে বিদ্যালয়ের প্রবেশপথ ঘিরে ফেলেন। এর ফলে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের একমাত্র পথ বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৯৮ সালে বাধাইড় ইউনিয়নের জুমারপাড়ায় বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ওই পথ ব্যবহার করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাতায়াত করে আসছেন। হঠাৎ করে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ইউরেকা খাতুন বলেন, “স্কুল প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই রাস্তা ব্যবহার করা হচ্ছে। হঠাৎ করে গেট বন্ধ করে দেওয়ায় আমরা কেউ ভেতরে ঢুকতে পারিনি। শিক্ষার্থীরা রোদে-বৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে ছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”

বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলে দুপুর ১টার দিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিব শংকর বসাক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তবে দুপুর ২টা পর্যন্ত কোনো সমাধান না হওয়ায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা স্কুলের বাইরেই অবস্থান করেন।

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিব শংকর বসাক বলেন, “জায়গাটি ব্যক্তিমালিকানাধীন দাবি করে ঘেরা হয়েছে। বিকল্প রাস্তার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হচ্ছে।” তবে গেট খুলে দেওয়ার কোনো নির্দেশনা না দিয়ে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা স্কুলের পেছনের একটি সরু গলি দিয়ে প্রবেশ করে পাঠ কার্যক্রমে অংশ নেয়। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *