
স্টাফ রিপোর্টার : আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সারা দেশের মতো রাজশাহী-৩ আসনেও জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী। এরই অংশ হিসেবে রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকালে মোহনপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নির্বাচনী গণসংযোগ করছে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ। গণসংযোগে তার সঙ্গে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা অংশ নেন।
এরপর গণসংযোগ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুপুর ২টায় পবা উপজেলার বড়গাছী ইউনিয়নে পথসভা ও গণসংযোগ করেন অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ। পথসভায় তিনি বলেন, জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং এলাকার টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করাই তার মূল লক্ষ্য। তিনি দাবি করেন, জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সমর্থন থাকলে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
গণসংযোগকালে অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় গিয়ে কথা বলা ও তাদের সমস্যা শোনা গণতান্ত্রিক রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি বলেন, মোহনপুরের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ আজ দাড়িপাল্লার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করছেন। সাধারণ জনগণের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে, তারা একটি সৎ, ন্যায়ভিত্তিক ও উন্নয়নমুখী নেতৃত্ব প্রত্যাশা করছেন।
স্থানীয় উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, নির্বাচিত হলে মোহনপুর উপজেলার রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আধুনিকীকরণ এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমাম, পুরোহিত ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের জন্য সম্মানজনক ভাতার ব্যবস্থা করা হবে বলেও তিনি প্রতিশ্রুতি দেন। বেকারত্ব দূর করতে শিল্পকারখানা স্থাপন এবং তরুণদের জন্য কর্মমুখী শিক্ষার সুযোগ তৈরির কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
গণসংযোগ চলাকালে বিভিন্ন ওয়ার্ডে নারী-পুরুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। অনেক প্রবীণ ব্যক্তি প্রার্থীকে কাছে পেয়ে দোয়া করেন এবং সমর্থনের আশ্বাস দেন। স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তারা তাদের দীর্ঘদিনের অবহেলিত সমস্যার কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে এলাকার রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থার কথা উল্লেখ করে তারা অভিযোগ করেন, বহু রাস্তা সংস্কারের নামে অবহেলা ও দুর্নীতির শিকার হয়েছে। ফলে প্রতিদিন চলাচলে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে জানান তারা।
এ বিষয়ে অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, জনগণের এসব অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশ্বাস দেন, জামায়াতে ইসলামী নির্বাচিত হলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান করা হবে। জনগণের দোরগোড়ায় গিয়ে তাদের কথা শোনা এবং বাস্তবসম্মত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই একটি কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলাই তার রাজনীতির মূল লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।

