চালু হওয়ার এক দিন পরেই অচল বিশ্বের বৃহত্তম পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র

অনলাইন ডেস্ক : পুনরায় চালু হওয়ার মাত্র একদিন পর ফের অচল হয়ে গেছে জাপানের কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র। আয়তন ও অবকাঠামোগত বিবেচনায় এটি বিশ্বের বৃহত্তম পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃত।

রাজধানী টোকিও থেকে ২২০ কিলোমিটার উত্তরপূর্বের বন্দরশহর নিগাতায় অবস্থিত এই পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রর আয়তন ৪২ লাখ বর্গমিটার বা ৪২০ হেক্টর। মোট ৭টি পরমাণু চুল্লি আছে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে, যেগুলোর সম্মিলিত বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা ৮ দশমিক ২ মেগাবাইট। এই পরমাণু কেন্দ্রটির পরিচালনা ও দেখভালের দায়িত্বে আছে জাপানের রাষ্ট্রায়ত্ত রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ পরিষেবা সংস্থা টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি (টেপকো)।

২০১১ সালে বড় মাত্রার এক ভূমিকম্প ও তার ফলে সৃষ্ট সুনামির জেরে জপানের ফুকোশিমা দাইচি পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট ৫৪টি চুল্লি বিধ্বস্ত হয়েছিল। এসব চুল্লির মধ্যে কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চুল্লিগুলোও ছিল।

ভূমিকম্প-সুনামির জেরে ফুকোশিমা দাইচি বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্জ্য ছড়িয়ে পড়েছিল প্রকৃতিতে। এই বিপর্যয় ‘ফুকোশিমা ট্র্যাজেডি’ নামে পরিচিত। চেরোনোবিলের পর ফুকোশিমা দাইচি পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইতিহাসে দ্বিতীয় বৃহত্তম বিপর্যয় বলে মনে করা হয়।

বিপর্যয়ের প্রাথমিক ধাক্কা কেটে যাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত পরমাণু চুল্লিগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছিলেন, ৫৪টি চুল্লির মধ্যে ৩৩টিকে মেরামত করে পুনরায় ব্যবহার ও উৎপাদনযোগ্য করে তোলা সম্ভব। সেই ৩৩টি চুল্লির মধ্যে কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুল্লিগুলোও অন্তর্ভূক্ত ছিলো।

গত ডিসেম্বরে বন্ধ হয়ে থাকা এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি মেরামত করে ফের চালু করার সিদ্ধান্ত নেয় জাপানের সরকার। সেই অনুযায়ী মেরামত কাজ শেষ হওয়ার পর টেপকো’র তত্ত্বাবধানে গত ২১ জানুয়ারি বুধবার ফের চালু হয় কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র।

কিন্তু তার পরের দিন ২২ জানুয়ারি সেই বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দেওয়ায় সেটি বন্ধ করতে বাধ্য হয় টেপকো কর্তৃপক্ষ। এক বিবৃতিতে কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কেন্দ্রটির ৬ নম্বর চুল্লিতে যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দিয়েছে এবং এই অবস্থায় যদি বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু রাখা হয়— তাহলে গুরুতর বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা আছে। তাছাড়া কেন্দ্রটির চুল্লিগুলোর অ্যালার্ম ব্যবস্থায়ও সমস্যা আছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে।

“আমরা যান্ত্রিক ত্রুটি সারানোর চেষ্টা করছি। কী কারণে এই সমস্যা দেখা গেল— তা জানতে তদন্তও শুরু হয়েছে। আপাতত কাশিওয়াজাকি-কারিয়া পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ আছে। এই ত্রুটি সারানো বেশ সময়সাপেক্ষ। তাই কবে থেকে ফের বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু হবে— তা এখনই বলা যাচ্ছে না”, বলা হয়েছে টেপকোর বিবৃতিতে।

সূত্র : আরটি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *