দোয়া ও গণসংযোগের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচার শুরু করলেন জামায়াত প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ

স্টাফ রিপোর্টার : আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার প্রথম দিনেই জনগণের সুস্থতা, নিরাপত্তা ও সার্বিক মঙ্গল কামনা করে গণসংযোগ শুরু করেছেন রাজশাহী-৩ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ।

নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে নওহাটা কলেজ মোড়ে অবস্থিত নির্বাচনী প্রচারণা কার্যালয়ের সামনে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নির্বাচনী কার্যক্রমের সূচনা করা হয়। এ সময় দেশের জনগণ, রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ কামনা করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন নওহাটা পৌরসভা জামায়াতে ইসলামীর আমির সুজা উদ্দিন আহমেদ। দোয়া অনুষ্ঠানে দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ও স্থানীয় মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন।

দোয়া ও মোনাজাত শেষে অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে গণসংযোগ কর্মসূচি শুরু করেন। নওহাটা কলেজ মোড় থেকে শুরু হয়ে নওহাটা বাজার, থানার মোড়, ব্রিজঘাটসহ আশপাশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন। এ সময় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের লিফলেট বিতরণ করা হয় এবং ভোটারদের কাছে তাঁর নির্বাচনী বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়। গণসংযোগকালে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ও আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়।

গণসংযোগকালে অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক অধ্যায় হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের জনগণই প্রকৃত অর্থে নায়ক হিসেবে ভূমিকা পালন করবে।” তিনি আরও বলেন, “একটি সুস্থ জাতিই পারে একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে। সেই বিশ্বাস থেকেই আমরা জনগণের সুস্থতা ও মঙ্গল কামনা করে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছি।”

তিনি চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় ও পরবর্তী সময়ে শহীদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং তাঁদের আদর্শ থেকেই একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রেরণা পাওয়া যায়।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি সুশৃঙ্খল, আদর্শভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত রাজনৈতিক দল। ইসলামের ন্যায়ভিত্তিক আদর্শকে সামনে রেখে দলটি দীর্ঘদিন ধরে সমাজে শান্তি, শৃঙ্খলা ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে। নেতৃত্বকে একটি আমানত হিসেবে বিবেচনা করে যোগ্য, সৎ ও নৈতিক নেতৃত্ব গড়ে তোলাই জামায়াতের মূল দর্শন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নির্বাচনী আচরণবিধি প্রসঙ্গে অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, জামায়াতে ইসলামী সবসময় আইন ও নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। নির্বাচনী প্রচারণার পুরো সময়জুড়ে কোনো ধরনের আচরণবিধি লঙ্ঘন করা হবে না এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।

উল্লেখ্য, নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চলবে। এ সময়ের মধ্যে রাজশাহী-৩ আসনের বিভিন্ন এলাকায় শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক গণসংযোগ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন দলীয় নেতারা।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *