হ্যাঁ ভোটের জন্য তোতা পাখির মতো না বলে ভোটারদের বোঝানোর আহ্বান স্বাস্থ্য উপদেষ্টার

স্টাফ রিপোর্টার : স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেছেন, যদি কোনো ভোটার কনভিন্স (উপলব্ধি করে) হয় যে, আমাকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতেই হবে, তবে তার কাছে যতই ‘না’ ভোটের জন্য প্রচারণা আসুক, সে হ্যাঁ-তেই ভোট দেবে। কারণ সে একজন মানুষ, তার বিবেক আছে, বুদ্ধি আছে, বিবেচনা আছে। শুধু তোতা পাখির মতো বলে গেলে সে এসব প্রচারণা নেবে না।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে পাবনা সার্কিট হাউজ সম্মেলন কক্ষে গণভোট ২০২৬ বিষয়ে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময়কালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

উপস্থিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে উপদেষ্টা বলেন, আমরা এতটা উঠান বৈঠক করেছি, এত পোস্টার বিলি করেছি, এত হাজার লিফলেট দিয়েছি অনেক কিছু করলাম কিন্তু দিনশেষে রেজাল্ট কী? আমরা যাকে বুঝাতে চাচ্ছি তার মতো করেই তাকে বুঝাতে হবে। আমরা যদি বুঝতে পারি তাহলে আরেকজনকেও বুঝাতে পারব। আপনারা সবাই শিক্ষিত মানুষ, আপনারা আপনাদের মতো করে যখন যেখানে যাবেন সেখানেই এ বিষয়গুলো ভোটারদের বুঝিয়ে বলবেন, কেন আপনি তাকে ‘হ্যাঁ’ তে ভোট দিতে বলছেন। আমরা চাচ্ছি সে বুঝে ভোট দিক।

তিনি বলেন, যারা দেশটাকে নষ্ট করতে চায় তারা এখনও রয়ে গেছে। তারা ভোটারদের বলছে, বিসমিল্লাহ চলে যাবে, আল্লাহর নাম চলে যাবে। কতগুলো উল্টাপাল্টা বিষয় বলে তাদের মনটা নষ্ট করছে। ওরা হয়তো এমন কথাও বলে দিতে পারে, তুমি যদি ‘হ্যাঁ’ তে ভোট দাও তবে বাংলাদেশ থেকে ইসলাম চলে যেতে পারে। আমাদের এসব ভুল জিনিসগুলো ভোটারদের ব্যাখ্যা করে বলতে হবে।

আমাদের সন্তানরা ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে নৌকাডুবিতে মারা যাচ্ছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, জায়গা-জমি বিক্রি করে এদেশ ছেড়ে যাচ্ছে ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য কিন্তু সে ভবিষ্যৎ চলে গেল ভূমধ্যসাগরে। আমাদের নিজেদেরকে প্রশ্ন করতে হবে, কী এমন দেশ বানালাম? কী জাতি আমরা তৈরি হলাম যে, আমাদের সন্তানদের এখানে ভালোভাবে থাকার একটা সুযোগও হচ্ছে না। এভাবে যদি চলতে থাকে তবে আমরা একটা খাদের কিনারায় চলে এসেছি। একটা ধাক্কা যদি পড়ে আমরা গর্তের মধ্যে পড়ে যাব।

তিনি আরও বলেন,জুলাই আমাদের জন্য একটা নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। আমাদের এতগুলো ছেলে জীবন দিয়েছে, হাত দিয়েছে, পা দিয়েছেÑ তাদের একটা স্বপ্ন ছিল। তারা একটা বৈষম্যহীন সমাজ গড়বে, যেখানে সবাই শান্তিতে থাকবে। এটা করতে হলে নিজেদেরকে আগে কনভিন্স (উপলদ্ধি) হতে হবে। তাহলে অন্যদের কনভিন্স করা সহজ হবে।

এসময় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর বাসযোগ্য ভূমি রেখে যেতে নিজের অন্তরকে পরিষ্কার করার আহ্বান জানান স্বাস্থ্য উপদেষ্টা।

পাবনা জেলা প্রশাসক ড. সাহেদ মোস্তফার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান, পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার জাহিদ। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

পরে উপদেষ্টা পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ মাঠে ভোটের গাড়ি কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *