ট্রায়াল দেয়ার নামে করে গাড়ি নিয়ে লাপাত্তা : আদালতে মামলা

স্টাফ রিপোর্টার : গাড়ির ওয়ার্কশপ থেকে গাড়ি কেনার পূর্বে চালিয়ে ট্রায়াল দেয়ার কথা বলে গাড়ি নিয়ে চলে গেছে যুবদল নেতা।

ঘটনাটি রাজশাহী নগরীর সিটি বাইপাস বন্ধ গেটে অবস্থিত নুর আহমেদ নামের একজন মোটর গাড়ির গ্যারেজ মালিকের সাথে ঘটেছে। আদালতে মামলার নথি ও ভুক্তভোগীর দেয়া বর্ননায় জানা যায়, গত ১৮ নভেম্বর বিকেলে এসএম সফিক মাহমুদ তন্ময় বিকাল ৪ টায় নুর মোহাম্মদের মোটর গ্যারেজে এসে Pajuro Harp একটা জিপ যার রেজিষ্ট্রেশন নাম্বার ঢাকা মেট্রো গ-০২-০৮৭০ পচ্ছন্দ করে গাড়িটি চালিয়ে ট্রায়াল দেয়ার কথা বলে নিয়ে চলে যায়। এরপর থেকে এসএম সফিক মাহমুদ তন্ময় গাড়িটি আর গ্যারেজ মালিককে ফেরত দেয়নি বা গাড়ির দামও পরিশোধ করেনি। গাড়ি ফেরত চাইলে বিভিন্ন রকম টালবাহানা করে এমনকি গাড়ি না দেওয়ার হুমকি ও দিয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগী গ্যারেজ মালিক নুর মোহাম্মদ।

গ্যারেজ মালিক নুর মোহাম্মদ গারিটি ১২ এপ্রিল ২০২৩ সালে চন্ডিপুরের আনিসুর রহমানের ছেলে মিজানুর রহমানের কাছে থেকে সাত লক্ষ ত্রিশ হাজার টাকায় ক্রয় করে গাড়িটি এযাবৎ কাল নিজেই ব্যাবহার করতো। গাড়ির সকল প্রকার মুল কাগজপত্র গ্যারেজ মালিক নুর মোহাম্মদের কাছে এবং গাড়িটি কেনার স্ট্যাম্পের এফিডেভিট ও গ্যারেজ মালিকের কাছেই আছে।

ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন তন্ময় রাজশাহী মহানগর যুবদলের নেতা আমি অনেক অনুরোধ করে গাড়িটি ফেরত চেয়েছি প্রথম প্রথম তিনি দিবো দিচ্ছি বললেও পরে আমাকে গাড়ি দিতে অস্বীকার করে এমনকি বিভিন্ন ভাবে হুমকি দেয়।
ভুক্তভোগী আরও বলেন আমি গত ৮ ডিসেম্বর রাজপাড়া থানায় এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করি। কিন্তু থানার পুলিশ গাড়ি উদ্ধারের বিষয়ে কোন উদ্যগ নেয়নি বরং ওসি সার গাড়ি উদ্ধার করতে পারবে না মামলাও নিবে না বলে দেয়।
গ্যারেজ মালিক নুর মোহাম্মদ বলেন আমি দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এই জায়গায় গ্যারেজ করে কার মাইক্রোসহ বিভিন্ন গাড়ির ইলেকট্রনিক্সের সার্ভিসিংএর কাজ করি। এর পাশাপাশি পুরাতন গাড়ি বৈধভাবে কেনা-বেচা করি। শহরে সকলেই আমাকে চেনে আমার সাথে কারো কোন শত্রুতা নাই। গাড়িটির কারনে আমার অনেক টাকার ক্ষতি হয়ে যাবে।

এবিষয়ে মামলায় একমাত্র অভিযুক্ত এসএম শফিক মাহমুদ তন্ময়ের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, গাড়িটি আমি সাগরপাড়ার রাজিব মতিনের কাছে থেকে কিনেছি, রাজিব মতিন এখন শহরের বাইরে অবস্থান করায় কাগজপত্র হাতে পেতে সপ্তাহ খানেক সময় লাগবে। তিনি আরও বলেন নুর মোহাম্মদ অনেক আগেই গাড়িটা রাজিব মতিনের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে রাজিব মতিন গাড়ি মেরামতের জন্য নুর মোহাম্মদের গ্যারেজে গাড়িটি রেখেছিলো। তন্ময় তার পরিচয়ে তিনি রাজশাহী মহানগর যুবদলের দপ্তর সম্পাদক পদে আছেন বলে জানান।

মামলার বিষয় নিয়ে নুর মোহাম্মদের আইনজীবী বলেন আমার মক্কেল নুর মোহাম্মদের গাড়িটি চালিয়ে দেখার নাম করে নিয়ে যায়। আমি আমার মক্কেলের পক্ষে জেলা রাজশাহীর বিজ্ঞ সি এম এম আদালত – রাজপাড়া’ মামলা দায়ের করি মামলা নং ৬৩৭ সি/২০২৫ মামলার ধারা ৩৭৯/৪০৬/৫০৬ পেনাল কোড -১৮৬০। মহামান্য আদালত মামলাটি রাজপাড়া থানায় তদন্তের জন্য নির্দেশ দেন।

এবিষয়ে রাজপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল মালেক বলেন, নুর মোহাম্মদ থানায় অভিযোগ করেছিলো, টাকা পয়সা লেনদেনের জটিলতা সহ বিভিন্ন কারনে আমি একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে বলবো সুষ্ঠু তদন্ত করতে। তবে আদলতে মামলার বিষয় জানার পর তিনি বলেন আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করবো।

তবে একাধিক সুত্রে জানা যায় রাজিব মতিন আওয়ামী লীগের নেতা বর্তমানে সে পলাতক আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *