
স্টাফ রিপোর্টার, লালপুর : নাটোরের লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা দিয়েছে। রোগীদের চাপ সামাল দিতে ছুটি বাতিল করে অতিরিক্ত নার্স ওয়ার্ডে নিয়োজিত করা হয়েছে। এদিকে, রোগীদের চিকিৎসার জন্য নাটোরের সিভিল সার্জন ও সেনাবাহিনী সহ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ৪শ পিচ ইনজেকশন (আইভি স্যালাইন) স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রদান করা হয়েছে। গত ৩ দিনে ১১৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে জানা গেছে। সবাই পাবনার ঈশ্বরদী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ প্রতিষ্ঠানের (ইপিজেড) শ্রমিক। রবিবার দুপুরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা সহ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মেহেদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে রোগীদের খোঁজ খবর নেন বলে জানা গেছে। রবিবার বেলা ৩ দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘুরে জানা গেছে, আক্রান্ত শ্রমিকদের মধ্যে রয়েছে ডেনিম ভিনটেজ (এ্যাবা), রেঁনেসা ,নাকানো ইন্টারন্যাশনাল বিডি এবং আরও কয়েকটি কারখানার কর্মীরা।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ইপিজেডে খাবার ও পানি গ্রহণের কয়েক ঘণ্টা পর থেকেই শ্রমিকদের মধ্যে বমি, পেট ব্যথা ও পাতলা পায়খানার উপসর্গ দেখা দিতে থাকে। প্রথমে কয়েকজন হালকা অসুস্থতা অনুভব করায় ছুটি নিয়ে বাড়ি চলে যান। তবে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ডায়রিয়াজনিত সমস্যা নিয়ে গত বৃহস্পতিবার থেকে এ পর্যন্ত ১১৩ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অনেকে বাড়ি ফিরে গেলেও বর্তমানে প্রায় ৫৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। আশংঙ্কাজনক
অবস্থায় ১ গর্ভবতীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। মতামত ,গার্মেন্টস কর্মী সিয়াম রেজা বলেন,আমি বাড়ী থেকে রান্না করা খাবার নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে কাজের ফাঁকে ইপিজেড এলাকার সরবরাহ (সাপ্লাই) পানি খেয়েছিলাম। এরপর থেকেই পেট ব্যথা, বমি ও পাতলা পায়খানা শুরু হয়। আর রেঁনেসা কোম্পানির কর্মী রুমা খাতুন বলেন, সাপ্লাই পানি খাওয়ার পরে বমি সহ পাতলা পায়খানা শুরু হয়। লালপুর সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসক ও নার্স আমাদের স্যালাইন ও ঔষধ দিয়েছেন। এখন আমি সুস্থতাবোধ করছি। তিনি আরো বলেন,অসুস্থ অবস্থায় ছুটি চাইলে কোম্পানি থেকে আমাদের ছুটি দেওয়া হয় না।
এদিকে হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে চাপ সামাল দিচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্স সহ কর্মচারীরা। এবিষয়ে নার্স হাফিজা খাতুন বলেন, আমরা রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি। এবিষয়ে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মনজুর রহমান বলেন,পানিতে ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পানি পান করায় বিষক্রিয়ার কারণেই তাদের ডায়রিয়া, বমি ও পেট ব্যথা দেখা দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, ইতিমধ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সেনাবাহিনী সহ পুলিশ সদস্যরা হাসপাতাল পরিদর্শন করেন এবং রোগীদের খোঁজ খবর নেন।

