চিকিৎসা সেবা থেকে জনসেবা- এমপি ডা. বারীর কর্মমুখর পথচলা

স্টাফ রিপোর্টার, বাগমারা : রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইতিহাস সৃষ্টি করে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. আব্দুল বারী সরদার। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে এ আসন থেকে জামায়াতের কোনো প্রার্থী জাতীয় সংসদে যেতে পারেননি। সেই দীর্ঘ রাজনৈতিক ধারার পরিবর্তন ঘটিয়ে একজন পেশাদার চিকিৎসক ও সমাজসেবক হিসেবে পরিচিত ডা. বারীর বিজয় স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পেশায় এমবিবিএস চিকিৎসক ডা. আব্দুল বারী সরদার চাকরির পেছনে না ছুটে নিজ এলাকায় থেকেই ধনী-গরিব নির্বিশেষে স্বল্পমূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদানের পথ বেছে নেন। দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে তিনি বাগমারার মানুষের পাশে থেকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন। নিজের উপার্জনের উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যয় করেছেন বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে তিনি ‘মানবিক ডাক্তার’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন পুরো বাগমারায়।

পেশাদার রাজনীতিবিদ না হয়েও সততা, ন্যায়নিষ্ঠা ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার আগেই দলীয় কর্মকাণ্ডে সহায়তা প্রদান করতেন বলে জানা যায়। পরবর্তীতে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয় অর্জন করেন তিনি।

সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পরও চিকিৎসাসেবা থেকে সরে যাননি ডা. বারী। ঢাকায় শপথ অনুষ্ঠান শেষে তিনি ছুটে আসেন বাগমারায় এবং নিজের প্রতিষ্ঠিত ভবানীগঞ্জ ক্লিনিকে নিয়মিত রোগী দেখা শুরু করেন। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী প্রতি শুক্রবার বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করছেন তিনি। তাঁর এ উদ্যোগে শত শত মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা বিনামূল্যে চিকিৎসা ও পরামর্শ পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করছেন। অনেকের ভাষায়, “এমপি হওয়ার পরও তিনি আগের মতোই আমাদের ডাক্তার সাহেব”—এটাই তাঁর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতিফলন।

শুধু চিকিৎসা সেবাই নয়, শিক্ষা বিস্তারেও রয়েছে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান। ব্যক্তিগত উদ্যোগে তিনি একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন, যেখানে বর্তমানে বহু শিক্ষিত তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এর মাধ্যমে এলাকায় যেমন শিক্ষার প্রসার ঘটেছে, তেমনি বেকারত্ব নিরসনেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে তাঁর উদ্যোগ।

দায়িত্ব গ্রহণের পর ইতোমধ্যে তিনি উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা এবং মাসিক আইন-শৃঙ্খলা সভায় অংশ নিয়েছেন। সেখানে দলমত নির্বিশেষে বাগমারার সার্বিক উন্নয়নে প্রশাসনের সর্বোচ্চ সহযোগিতা কামনা করেন। কোনো মানুষ যেন বঞ্চিত বা অবহেলিত না হন—সে বিষয়ে তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

নিজেকে পেশাদার রাজনীতিবিদ দাবি না করে অকপটে তিনি বলেন, “আমি রাজনীতির মানুষ নই, অনেক কিছু এখনো শিখছি। খুব দ্রুত শিখে নেব। আপনারা আমাকে সহযোগিতা করবেন।” একই সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কাছে বরাদ্দ ও ব্যয়ের স্বচ্ছ তথ্য প্রদানের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “কোন দপ্তরে কত বরাদ্দ এলো, কতটুকু কাজ হলো—সব তথ্য আমাকে জানাতে হবে। জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কেউ বলতে না পারে এমপি সাহেব মেরে খেয়েছে।”

ঘনিষ্ঠজনদের মতে, ব্যক্তিগত স্বার্থ বা বিলাসী কোনো স্বপ্ন তাঁকে তাড়িত করে না। তাঁর স্বপ্ন বাগমারাকে ঘিরেই—এই জনপদের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার বিস্তার এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক, জবাবদিহিমূলক সমাজ গঠন। তিনি নিজেও বলেছেন, “আমার ব্যক্তিগত কোনো স্বপ্ন নেই, বাগমারার মানুষ ভালো থাকলেই সেটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”

প্রচলিত রাজনৈতিক ধারা থেকে বের হয়ে স্বচ্ছতা, মানবিকতা ও সেবাকে ভিত্তি করে ‘নতুন আঙ্গিকে নতুন বাগমারা’ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন ডা. আব্দুল বারী সরদার। এখন বাগমারাবাসীর প্রত্যাশা-মানবিক চিকিৎসক থেকে জাতীয় সংসদের আইনপ্রণেতা-এই নতুন ভূমিকায়ও তিনি সমানভাবে সফল হবেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *