
স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী নগরীর মতিহার থানাধীন বাজে কাজলা এলাকায় আইন-কানুন ও অনুমোদিত নকশার তোয়াক্কা না করেই আওয়ামী দোশরের দাপটের সাথে চলছে বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ। রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) কাজ বন্ধের নির্দেশ ও কারণ দর্শানোর নোটিশ দিলেও তা ‘বৃদ্ধাঙ্গুলি’ দেখিয়ে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বাজে কাজলার মৃত খলিলুর রহমানের মেয়ে পলাতক রাজশাহী সিটি মেয়রের পত্নীর ঘনিষ্ঠ আস্থাভাজন মহল্লা নেত্রী আওয়ামী দোশর লিপি(৪১)। অভিযোগ উঠেছে, সিটি কর্পোরেশনের সাবেক এক প্রভাবশালী নারী নেত্রীর (আওয়ামী দোসর) ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুবাদে প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
আরডিএ সূত্রে জানা গেছে, কাজলা মৌজার আরএস ২২৯০ ও ২২৯২ দাগে নির্মাণাধীন ভবনটির কোনো অনুমোদিত নকশা নেই। আরডিএ-র অথরাইজড অফিসার মো. আব্দুল্লাহ আল তারিক স্বাক্ষরিত এক নোটিশে জানানো হয়েছে, ইমারত নির্মাণ আইন ১৯৫২-এর ৩(খ) ধারা মোতাবেক এই নির্মাণকাজ অবৈধ। নোটিশে আগামী ৭ দিনের মধ্যে কেন এই অবৈধ স্থাপনা ভেঙে ফেলা হবে না, তার সন্তোষজনক জবাব চাওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ৩(খ)(২) ধারা অনুযায়ী পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুনানির জন্য আগামী ১৬ মার্চ ২০২৬ সকাল ১১টায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হলেও সরজমিনে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র।
প্রশাসনের নীরবতায় এলাকাবাসী আতঙ্কিত, এছাড়াও অভিযোগকারী ও স্থানীয়দের দাবি, বিবাদী বাজে কাজলার মৃত খলিলুর রহমানের মেয়ে লিপি(৪১) সাবেক আওয়ামী লীগ নেত্রীর দাপট দেখিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছেন। আরডিএ থেকে কাজ বন্ধের নির্দেশ দিলেও তিনি তা মানছেন না। উল্টো দ্রুতগতিতে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
অভিযোগকারী বলেন, “আরডিএ নোটিশ দিয়েছে, থানাকে ব্যবস্থা নিতে বলেছে। কিন্তু পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। বিবাদী জনসম্মুখে দাপট দেখিয়ে বলছেন যে, অদৃশ্য শক্তির ইশারায় সব ম্যানেজ করা আছে। একজন আওয়ামী দোসরের দাপটে পুরো এলাকার মানুষ এখন আতঙ্কিত।”
এ বিষয়ে আরডিএ-র অথরাইজড অফিসার মো. আব্দুল্লাহ আল তারিক জানান, “আমরা আইন অনুযায়ী নোটিশ জারি করেছি এবং বিবাদীকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে। কাজ চলমান রাখার কোনো সুযোগ নেই। মতিহার থানাকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তবে মতিহার থানা পুলিশের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, প্রশাসন কি তবে কোনো বিশেষ ‘অদৃশ্য শক্তির’ কাছে জিম্মি? কেন একজন চিহ্নিত রাজনৈতিক দোসরের দাপটে আইনের শাসন প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।

