তানোরের হাতিশাইল সড়ক নির্মাণে বদলে গেছে যোগাযোগ ব্যবস্থা

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর তানোর উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়নের হাতিশাইল স্কুলপাড়া গ্রামে প্রায় এক কিলোমিটার পাকা সড়ক নির্মাণের ফলে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় এসেছে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। এতে উপকৃত হচ্ছে প্রায় সহস্রাধিক পরিবারসহ হাতিশাইল উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

কিছুদিন আগেও ভাঙাচোরা ও কাদামাখা এই সড়কে চলাচল ছিল স্থানীয়দের জন্য চরম ভোগান্তির বিষয়। বর্ষা মৌসুমে রাস্তার বিভিন্ন স্থানে পানি জমে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ত। ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করতে হতো, অনেক সময় মানুষ বাধ্য হয়ে পায়ে হেঁটে যাতায়াত করত। তবে সড়কটি পাকা হওয়ায় এখন সেই দুর্ভোগ কেটে গেছে।

সম্প্রতি সড়কটির পাকাকরণ কাজ সম্পন্ন হয়। নতুন এই সড়ক গ্রামবাসীর জীবনে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াতের সুযোগ পেয়ে কৃষক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে ফিরেছে স্বস্তি।

জানা গেছে, কামারগাঁ ইউনিয়নের হাতিশাইল গ্রামে প্রায় সহস্রাধিক পরিবারের বসবাস। দীর্ঘদিন ধরে মাত্র এক কিলোমিটার সড়ক কাঁচা থাকায় তাদের দুর্ভোগের শেষ ছিল না। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে কৃষকদের ফসল পরিবহন এবং শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতে চরম সমস্যার সম্মুখীন হতে হতো।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৯৭ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটি পাকাকরণ করা হয়। কাজটি বাস্তবায়ন করে উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে রাজশাহী শহরের মেসার্স র‍্যাবেল এন্টারপ্রাইজ।

কাজের শুরু থেকেই উপজেলা প্রকৌশলী নুর নাহার সরাসরি তদারকি করেন। ফলে কাজে অনিয়মের কোনো সুযোগ হয়নি। নির্ধারিত সিডিউল অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা কাজের মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয় অটোচালক আব্দুর রশিদ বলেন, আগে কাঁচা রাস্তার কারণে প্রতিদিন যাতায়াতে অনেক কষ্ট হতো। এখন চলাচল সহজ হয়েছে, সময় ও খরচ দুটোই কমেছে। অটোরিকশাচালক আলম জানান, আগে রাস্তার খারাপ অবস্থার কারণে ব্যাটারির চার্জ ও সময় বেশি লাগত। এখন যাত্রী ও চালক উভয়েই স্বস্তিতে চলাচল করতে পারছেন।

স্থানীয়রা মনে করছেন, এই সড়ক এ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি সঞ্চার করবে। কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারজাতকরণ, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার এবং মানুষের কর্মজীবনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

স্থানীয় বাসিন্দা সুলতান আহম্মেদ বলেন, উপজেলা প্রকৌশলীর তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। নিয়ম মাফিক কাজ হওয়ায় আমরা সন্তুষ্ট। স্কুল শিক্ষক মাসুদ রানা বলেন, এলাকার মানুষ রাস্তার কাজের মান নিয়ে খুশি। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতেই কার্পেটিং কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে তানোর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী নুর নাহার বলেন, কাজের মান নিয়ে কোনো আপোষ করা হয়নি। সিডিউল অনুযায়ী নিয়মমাফিক কাজ বুঝে নেওয়া হয়েছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ পরিদর্শন করে কাজের মানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। রাস্তার দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও কার্পেটিংসহ সবকিছু সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *