মসজিদে মব তৈরি করে মুসাফিরকে নাজেহাল

স্টাফ রিপোর্টার, বাগমারা : দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ভোট চাওয়ার অভিযোগ তুলে মব তৈরি করে এক দৃষ্টি প্রতিবন্ধীকে নাজেহালের অভিযোগ পাওয়া গেছে।সেনাবাহিনীসহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মুসাফিরকে উদ্ধার করেছে। রাজশাহী-৪( বাগমারা) আসনের দ্বীপপুর ইউনিয়নের নানসর গ্রামে আজ দুপুরে এই ঘটনা ঘটে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ দুপুরে জুমআ নামাজের শেষে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বড়শিমলা গ্রামের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী আবদুল লতিফ কিছু কথা বলার জন্য মসজিদ কমিটির লোকজন ও ইমামের কাছে অনুমতি চান। অনুমতি নিয়ে তিনি কোরআনের কয়েকটি আয়াত পাঠ করেন। সেখানে সমাজের ভালো ও মন্দ শ্রেণির লোকদের তফাত করেন। নামাজের গুরুত্ব নিয়েও আলোচনা করা হয়। পরে তিনি নিজেকে মুসাফির ও অসহায় উল্লেখ করে মুসল্লিদের কাছ থেকে সাহায্য চান। এসময় মসজিদের দোতলায় থাকা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির ছেলে যুবলীগের কর্মী তোতা হোসেন কয়েকজনকে নিয়ে মসজিদের নিচতলায় আসেন। নিচে থাকা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মুসাফির আবদুল লতিফকে ঘিরে ধরেন। তিনি জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষ দাঁড়িপাল্লায় ভোট চাচ্ছেন বলে অভিযোগ করে মব তৈরি করে নাজেহাল করেন। এসময় মসজিদে থাকা মুসল্লিরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন।

পরে জামায়াতের লোকজন খবর পেয়ে তারাও সংঘবদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে আসলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভবানীগঞ্জে সেনাবাহিনীর ক্যাম্পের সদস্য, বিজিবি ও পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে মবের শিকার দৃষ্টি প্রতিবন্ধীকে উদ্ধার করা হয়। পরে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয় প্রতিবন্ধীকে।

আবদুল লতিফ বলেন, ‘ আমি অন্ধ মানুষ, বিভিন্ন মসজিদে গিয়ে মুসল্লিদের কাছে সাহায্যে চেয়ে সংসার চালায়। কোনো কাজ করবের পারি না, তাই হাত পাতি। কারোর ভুট চাইনি।’ এক পর্যায়ে তিনি ঘটনার বিবরণ দিয়ে কেঁদে ফেলেন।
স্থানীয়রা জানান, তোতা হোসেন যুবলীগের কর্মী। গত ৫ আগস্টের পর তিনি পালিয়ে ছিলেন। এর মধ্য দুই ভাই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে রাজশাহী কারাগারে আছেন। তিনি প্রতীক বরাদ্দের পর এলাকায় ফিরে ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণা চালান।

যুবলীগের কর্মী তোতা মব তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, মুসাফির বক্তব্যে বলেছেন, যারা নামাজ পড়ে না, তারা মুসলমান না। এছাড়াও কৌশলে জামায়াতকে ভোট দেওয়ার কথা বলেছে, তাই প্রতিবাদ করেছি।’ গায়ে হাত দেওয়া হয়নি।’ যুবলীগের কর্মী হয়ে ধানের শীষের প্রচারণা চালানো প্রসঙ্গে বলেন, সারাদেশেইতো আওয়ামী লীগের লোকজন দাঁড়িপাল্লায় ও ধানের শীষের হয়ে কাজ করছে।

বাগমারা থানার ওসি সাইদুল আলম জানান, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মুসাফিরকে উদ্ধার করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *