তাহেরপুর আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের প্রথম ধাপ শেষ, প্রবেশ সড়কেই প্রতিবন্ধকতা

বাগমারা প্রতিনিধি : রাজশাহীর বাগমারার ঐতিহ্যবাহী তাহেরপুর হাটের দীর্ঘদিনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংকট নিরসনে নির্মাণাধীন আধুনিক ডাম্পিং স্টেশনের প্রথম ধাপের কাজ শেষ হয়েছে। তবে প্রবেশ সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হওয়ায় বর্জ্য পরিবহন কার্যক্রম শুরু নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

ব্রিটিশ আমল থেকে পুঠিয়া, দুর্গাপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার কৃষিপণ্য বেচাকেনার অন্যতম কেন্দ্র তাহেরপুর হাট। কিন্তু সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে দীর্ঘদিন ধরে বাজারের ময়লা-আবর্জনা পাশের রাণী নদীতে ফেলা হতো। এতে নদী ভরাট, তীব্র দুর্গন্ধ, পরিবেশদূষণ ও জনভোগান্তি চরম আকার ধারণ করে।

এ পরিস্থিতি উত্তরণে তাহেরপুর পৌরসভার প্রশাসক ও বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুবুল ইসলামের উদ্যোগে পৌরসভার অদূরে জামগ্রাম ও নূরপুর এলাকার ১ একর ৯৮ শতাংশ খাসজমিতে আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ কাজ শুরু হয়। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) থেকে ২৪ লাখ ৩৪ হাজার ২২১ টাকা ব্যয়ে টেন্ডারের মাধ্যমে প্রথম ধাপের কাজ বাস্তবায়ন করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রথম বরাদ্দের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট কাজ নতুন বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে শেষ করা হবে।

এ ডাম্পিং স্টেশন উদ্বোধনের জন্য রাজশাহী জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার আসার কথা থাকলেও ব্যস্ততার কারণে তা আর হয়ে ওঠেনি।

সর্বশেষ সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ডাম্পিং স্টেশনে প্রবেশের প্রধান সড়কের কাছাকাছি অংশে বাঁশের বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে। ফলে পায়ে হেঁটে কিংবা সর্বোচ্চ ভ্যানগাড়ি চলাচল সম্ভব হলেও বর্জ্য পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত ট্রাক বা বড় যানবাহনের প্রবেশ কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এতে ডাম্পিং স্টেশন চালু করা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সড়ক উন্মুক্ত ও চলাচল উপযোগী না করলে ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের সুফল পাওয়া যাবে না। তারা অচিরেই প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির বিষয়ে জানতে চাইলে তাহেরপুর পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম জানান, স্থানীয়দের মতামতের ভিত্তিতেই কাজটি সম্পন্নের পথে। কোনো সমস্যার সৃষ্টি হলে সবাইকে নিয়েই সেটির সমাধান করা হবে। অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন ও অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধান করা গেলে তাহেরপুর পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে জৈব সার উৎপাদনের পরিকল্পনাও রয়েছে, যা স্থানীয় কৃষকদের জন্য বাড়তি সুবিধা সৃষ্টি করবে।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, দ্রুত সড়ক জটিলতা নিরসন ও পূর্ণাঙ্গ কাজ শেষ করা গেলে পরিবেশ রক্ষা, নদী ভরাট রোধ এবং পৌর এলাকার সার্বিক পরিচ্ছন্নতায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *