
স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী অঞ্চলে গত এক সপ্তাহ ধরে তীব্র আকার ধারণ করেছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট। দিন ও রাতে সমানতালে বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে কৃষি উৎপাদনসহ জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন আলু ও বোরো চাষের সঙ্গে যুক্ত কৃষকেরা।
পল্লী এলাকাগুলোতে ঘণ্টা থেকে শুরু করে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকছে। কোথাও কোথাও দিনে ৮ থেকে ১০ বার পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের ঘটনা ঘটছে। এর ফলে সেচ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। রবি শস্যের ভরা মৌসুমে মাঠে হাজার হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ চলছে এবং একই সঙ্গে শুরু হয়েছে বোরো ধানের রোপণ। সময়মতো সেচ দিতে না পারায় ফসলের ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।
বরেন্দ্র অঞ্চলের তানোর, গোদাগাড়ী, মোহনপুর, বাগমারা ও দুর্গাপুর উপজেলার গ্রামগুলোতে লোডশেডিংয়ের মাত্রা তুলনামূলকভাবে বেশি। এতে কৃষির পাশাপাশি স্বাভাবিক জনজীবনও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত একাধিকবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ফটোকপি ও কম্পিউটারভিত্তিক কাজ করতে গিয়ে দীর্ঘ সময় নষ্ট করছেন। অনেক অফিসে জেনারেটর বা আইপিএস না থাকায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হারিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্র জানায়, চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জেলায় প্রায় এক লাখ ৭৯ হাজার আবাসিক, বাণিজ্যিক ও সেচ গ্রাহকের দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৬০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫০ থেকে ৫২ মেগাওয়াট। ফলে প্রতিদিন ৭ থেকে ১০ মেগাওয়াট ঘাটতির কারণে গ্রামাঞ্চলে নিয়মিত লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।
পল্লী বিদ্যুতের কয়েকজন লাইম্যান জানান, রামপাল বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের একটি ইউনিট পুরোপুরি অকেজো হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি কয়লা সংকটের কারণে উৎপাদন কমে যাওয়ায় উত্তরাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের চাপ বেড়েছে।
রাজশাহীর তানোর উপজেলার মুন্ডুমালা পৌর এলাকার চুনিয়াপাড়া গ্রামের আলু চাষি জয়নাল বলেন, সোমবার সকাল থেকে তিনজন শ্রমিক নিয়ে ৩০ বিঘা জমিতে সেচ দিতে গিয়ে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন তিনি। দুটি গভীর নলকূপে সারাদিন চেষ্টা করেও চার ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ পাননি।
মুন্ডুমালা বাজার পূর্ব বণিক সমিতির সভাপতি ও কাপড় ব্যবসায়ী জিয়াউর রহমান তুহিন জানান, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাজারে ক্রেতা কমে যাচ্ছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সমস্যার স্থায়ী সমাধান দাবি করেন তিনি।
রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম টেকনিক্যাল সপ্তম সিপার জানান, সোমবার পল্লী বিদ্যুতের আওতায় ৫৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে মাত্র ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে। এতে প্রায় ৮ মেগাওয়াট ঘাটতি তৈরি হয়।
এ অবস্থায় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় চলতি মৌসুমে আলু, বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

