বেপরোয়া ভাবে চলছে রাজশাহীতে ঔষধের স্যাম্পল বিক্রি

স্টাফ রিপোর্টার : ঔষধ বিক্রির জন্য অনুমোদিত লাইসেন্স (ড্রাগ লাইসেন্স) এর শর্তসমুহের ৬ নম্বর পয়েন্টে লিখা আছে ‘ফিজিশিয়ান স্যাম্পল ক্রয়/বিক্রয় করা যাইবে না’ তবে এই শর্ত অমান্য করে বেপরোয়া ভাবে অবাধে ক্রয়/বিক্রয় হচ্ছে ফিজিশিয়ান স্যাম্পল ঔষধ। স্থানীয় ঔষধ প্রশাসনসহ রাজশাহী ড্রাগ এন্ড কেমিষ্ট সমিতি ও তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়ে স্যাম্পল বিক্রি বন্ধ করতে পারছে না। স্থানীয় ড্রাগ এন্ড কেমিস্ট সমিতিও পুরোপুরি ভাবে ঔষধ প্রশাসনকে সহযোগিতা করেনা।

রাজশাহী নগরীর লক্ষীপুর মোড় ডিগ্রি কলেজের গলিতে অবস্থিত মডেল মেডিসিন মার্কেটের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় প্রায় ডজন খানেক দোকানে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে স্যাম্পল ঔষধের দোকান। ২/৩ টা দোকানের সাইনবোর্ড থাকলেও বাকী অন্য দোকানগুলোতে কোন সাইনবোর্ড পাওয়া যায়নি।

বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানির স্যাম্পল ক্রয় করে গ্রাম গঞ্জের পল্লী চিকিৎসক ও ফার্মেসীর কাছে এসব ঔষধ বেশি বিক্রি করে। বিক্রয় মুল্যের চেয়ে ৪০-৫০ শতাংশ কমে বিক্রি করায় স্যাম্পলের চাহিদাও বেশি।

স্যাম্পল ঔষধ বিক্রয় নিষিদ্ধ কেনো এমন প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় ফার্মেসীর একজন মালিক বলেন “স্যাম্পল ঔষধের পাতা কাটা থাকে এতে মেয়াদউত্তির্নের তারিখ থাকেনা তাই এটি বিক্রি করা নিষেধ” সেই সাথে তিনি আরও বলেন লক্ষীপুরসহ নগরীর অনেক ফার্মেসী এই স্যাম্পল ঔষধ পাইকারি কিনে খুচরা দামে বিক্রি করে, এটা অপরাধ।

তবে স্যাম্পল বিক্রেতারা এটাকে অপরাধ মানতে অপরগতা প্রকাশ করে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্যাম্পল বিক্রেতা বলেন স্যাম্পল ঔষধ খারাপ হলে কোম্পানি বানায় কেন আর ডাক্তদেরকে দেয় কেনো?

স্যাম্পল ঔষধের বিষয়ে প্রতিষ্ঠিত একটি কোম্পানির এরিয়া ম্যানেজার জানান এটি মুলত আমাদেরকে দেয় চিকিৎসকদের কাছে ঔষধটি পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য, তবে কিছু অসাধু রিপ্রেজেনটেটিভ স্যাম্পল বিক্রি করে আবার ডাক্তাররাও তাদেরকে দেয়া স্যাম্পল ঔষধগুলো বিক্রি করে দেয়। এভাবেই স্যাম্পল ঔষধ মার্কেটে বিস্তার লাভ করে।

তিনি আরও বলেন স্যাম্পল ঔষধের কারনে অনেক সময় আমাদের বিক্রয় টার্গেট পূরন হয়না। এটার বিরুদ্ধে ঔষধ প্রশাসনের জোড়ালো পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

রাজশাহী নগরীর লক্ষীপুরে স্যাম্পল ঔষধ পাওয়া যায় চৌরাঙ্গী মসজিদের পূর্ব দিকে অবস্থিত স্যাম্পল মার্কেটে, মডেল হাসপাতালের নিচে এবং ডিগ্রি কলেজের গলিতে অবস্থিত মডেল মেডিসিন মার্কেটে। চৌরাঙ্গী মসজিদের পূর্ব দিকে অবস্থিত স্যাম্পল মার্কেটে একাধিকবার ঔষধ প্রশাসন অভিযান চালিয়ে জরিমানা মামলা করে স্যাম্পল বিক্রয় বন্ধ করতে ব্যার্থ হয়েছে। তবে মডেল মেডিসিন মার্কেটে ও ঔষধ প্রশাসনের অভিযান হয়েছে বলে স্থানীয় এক ফার্মেসী প্রতিবেদককে জানান।

এ বিষয়ে মডেল মেডিসিন মার্কেটের সাধারন সম্পাদক মুর্শেদ ফার্মেসীর মালিক জানান আমাদের মার্কেটে স্যাম্পল ঔষধ যারা বিক্রি করে তারা তাদের নিজের দায়িত্বে বিক্রি করে। মার্কেট কর্তৃপক্ষ এটার দায়ভার নিবেনা। প্রশাসন একাধিকবার অভিযান চালিয়ে তাদের ব্যাবসা বন্ধ করতে পারেনি।

স্যাম্পল ঔষধ বিক্রয়ের বিষয়ে রাজশাহী ড্রাগ এন্ড কেমিস্ট সমিতির সভাপতি আলহাজ হারুন উর রশিদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার কোন মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এবিষয়ে মোঃ শরিফুল ইসলাম ঔষধ তত্ত্বাবধায়ক ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর জেলা কার্যালয় রাজশাহী জানান, আমরা একাধিকবার লক্ষীপুরে অভিযান চালিয়ে স্যাম্পল বিক্রেতাদের জরিমানা ও মামলা দিয়েছি। অনেকের বিরুদ্ধে মামলা চলমান রয়েছে। আমি গতবছর ২০২৫ সালে ১২০ টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা ও ৪৭ টি মামলা দিয়েছি তারপরও অনেকেই ব্যবসা করছে।এখন জরিমানা দশ হাজার টাকা করা হয়েছে। আমি অতিদ্রুত আবারও লক্ষীপুরসহ শহরে যেখানেই স্যাম্পল বিক্রি করে তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে অভিযান চালাবো।

স্যাম্পল ঔষধ থেকে সরকারেকে কোন ভ্যাট দিতে হয়না পাশাপাশি এই ঔষধের পাতায় মেয়াদউর্ত্তিনের তারিখ থাকেনা তাই স্যাম্পল বিক্রি সম্পূর্ণরুপ অবৈধ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *