সুষ্ঠু নির্বাচনের পূর্বশর্ত সচেতন ভোটার: ভোটার সচেতনতায় লাইট হাউজ

স্টাফ রিপোর্টার : সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্ত হলো সচেতন ভোটার—এমন মন্তব্য করেছেন বক্তারা। তারা বলেন, নারী, যুব ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ভোটাররা যদি ভোটাধিকার প্রয়োগের নিয়ম, নির্বাচন আচরণবিধি ও নাগরিক দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হন, তবে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, বিভ্রান্তি ও ভয়ভীতি অনেকাংশে কমে আসবে। একই সঙ্গে দায়িত্বশীল ভোটার অংশগ্রহণ নির্বাচন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বেলা ১২টায় নগরীর বোয়ালিয়া ক্লাব মিলনায়তনে বিভাগীয় পর্যায়ে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে ভোটার শিক্ষা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা। ‘নারী, যুব ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে অন্তর্ভুক্তিমূলক ভোটার সচেতনতা প্রকল্প’-এর আওতায় সভাটির আয়োজন করে মানবাধিকার সংগঠন লাইট হাউজ। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত এই সভায় ভোটার শিক্ষা, নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ও নাগরিক অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার। তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচন আয়োজনের জন্য ভোটারদের সচেতন ও দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ অপরিহার্য। ভোটাধিকার প্রয়োগের সঠিক পদ্ধতি, নির্বাচন আচরণবিধি ও পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কে ভোটাররা অবগত থাকলে অনিয়ম ও বিভ্রান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। এ ক্ষেত্রে লাইট হাউজের মতো মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সভা সঞ্চালনা করেন লাইট হাউজের নির্বাহী প্রধান মো. হারুন অর রশিদ। তিনি বলেন, দেশের ৩০টি ইউনিয়নে নারী, প্রতিবন্ধী নারী, যুবক, প্রথমবার ভোটার, হিজড়া ও যৌনকর্মীসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে ভোটাধিকার, নির্বাচন প্রক্রিয়া ও নাগরিক দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। গ্রামীণ এলাকায় ভোটার শিক্ষার বিস্তার ঘটিয়ে সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মানুষের কাছেও সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়াই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

সভায় জানানো হয়, প্রকল্পের আওতায় রাজশাহীসহ তিনটি জেলায় মোট ৩০টি ইউনিয়নে নারীদের জন্য উঠান বৈঠক, ইউনিয়ন নারী ফোরাম প্রশিক্ষণ, কলেজ ক্যাম্পেইন, সামাজিক মাধ্যম প্রচারণা, হিজড়া ও যৌনকর্মীদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ, মাইকিং, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ভিডিও স্ক্রিনিং এবং তথ্য-শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি গণভোট বিষয়ে প্রচারণা জোরদার করা এবং নারী, যুব ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে অন্তর্ভুক্তিমূলক ভোটার সচেতনতা বৃদ্ধিতে এনজিওসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

সভা শেষে আয়োজকেরা জানান, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী ও নারী নেতাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই কার্যক্রমকে টেকসই করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে তারা নিজ উদ্যোগে ভোটার শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন। লাইট হাউজ ও পুমডোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় পর্যায়ের এই মতবিনিময় সভায় আন্তর্জাতিক নির্বাচন সহায়তা প্রতিষ্ঠান আইএফইএস সহযোগিতা করে। সভায় স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা, নারী নেতৃবৃন্দ, যুব সংগঠন, সাংস্কৃতিক দল ও সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন।

এ সময় রাজশাহী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সাবিনা ইয়াসমিন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর রাজশাহীর সহকারী পরিচালক মোছা. শামসুননাহার খাতুন, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার বিশেষ প্রতিনিধি ড. আইনুল হক, বরেন্দ্র উন্নয়ন প্রচেষ্টার নির্বাহী পরিচালক ফয়জুল্লাহ চৌধুরী, ডাসকো ফাউন্ডেশনের পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম খান, আসুসের নির্বাহী পরিচালক রাজ কুমার শাও, লাইট হাউজের জেন্ডার কমপ্লায়েন্স অ্যাডভাইজার ওয়াহিদা ইয়াসমিন এবং এসিডির প্রজেক্ট কোঅর্ডিনেটর সুব্রত কুমার পাল বক্তব্য রাখেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *