
স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মহানগর গোয়েন্দা (শাখা) ডিবি, এয়ারপোর্ট থানা, কাশিয়াডাঙ্গা থানার কেশবপুর পুলিশ ফাঁড়ি ও কর্ণহার থানা পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে গাঁজা, ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় নারীসহ ৫ মাদক ব্যবসায়ী ও ১ মাদকসেবীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ জানায়, বুধবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যা আনুমানিক পৌনে ৭টার দিকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) বোয়ালিয়া থানার খড়বোনা নদীরধার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে একই গ্রামের মৃত কামাল শেখের মেয়ে ও মৃত ভুট্টু মিয়ার স্ত্রী মোসা: ডলি বেগম (৫৫)-কে তার দোকান ঘরের মধ্য হতে গ্রেপ্তার করে। এসময় তার দোকান ঘর তল্লাশি করে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা ৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। উল্লেখ্য, আসামি ডলি একজন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে বোয়ালিয়া থানায় পূর্বের ৪টি মাদক মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তাকে যথাক্রমে ১৯ ডিসেম্বর ২০২৩; ২৩ মে ২০২৬; ১৯ এপ্রিল ২০১৬ এবং ১১ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ গত ১৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক পৌনে ১১ টার দিকে বায়া ভোলাবাড়ি আব্দুল গফুর আলীর আম বাগানের মধ্যে অভিযান পরিচালনা করে একই গ্রামের মো: আ: রাজ্জাকের ছেলে মো: সোহাগ আলী (২৯); মো: আফাজ উদ্দিনের ছেলে মো: রকি হোসেন (২৪) এবং মৃত মোবারক আলীর ছেলে মো: মানিক আলী (৩০)-কে গ্রেপ্তার করে। এসময় আসামিদের হেফাজত হতে মোট ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ২০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
এছাড়াও গত ১৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে কাশিয়াডাঙ্গা থানার কেশবপুর পুলিশ ফাঁড়ি গোলজারবাগ গুড়িপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর থানার বাংলাবাজার গ্রামের মো: সাভা ভুইয়ার ছেলে বর্তমানে বোয়ালিয়া থানার উপশহর এলাকায় বসবাসরত মো: নাজমুল হোসেন (৪০)-কে গ্রেপ্তার করলেও গোলজারবাগ গুড়িপাড়া গ্রামের কুরবান আলীর স্ত্রী মোছা: হিরা (৫২) পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কৌশলে পালিয়ে যায়। এসময় নাজমুলের হেফাজত হতে ১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আসামি নাজমুল ও পলাতক আসামি হিরা একে অপরের সহযোগিতায় দীর্ঘদিন যাবত মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। উল্লেখ্য আসামি হিরার বিরু্দ্ধে আরএমপির বিভিন্ন থানায় ৩টি মাদক মামলা রয়েছে।
এদিকে একই তারিখ রাত আনুমানিক ৯টার দিকে কর্ণহার থানা পুলিশ মোল্লাডাইং গ্রামের হাদু শেখের আম বাগানে অভিযান পরিচালনা করে মোল্লাডাইং শিশাপাড়া গ্রামের মৃত শুকুর মন্ডলের ছেলে মো: গাফফার মন্ডল ওরফে গফুর (২৯)-কে গাঁজা সেবনরত অবস্থায় গ্রেপ্তার করে। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পবা (দারুসা), রাজশাহীতে আসামির স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হলে চিকিৎসকের মতামতের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করা হয়।
আসামিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা রুজু করে করে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা করা হয়েছে। এছাড়াও পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

