
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী স্টেশনে সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় প্রায় ৬ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের রেলপথে ট্রেন চলাচলের জন্য ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন স্টেশনে আটকে থাকা আন্তঃনগর ট্রেনগুলো পরিকল্পনা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেল ৫টা ১০ মিনিটের দিকে সিরাজগঞ্জ বাজার রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল ইসলাম তালুকদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে ট্রেন চলাচলের জন্য ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন স্টেশন থেকে পরিকল্পনা অনুযায়ী ট্রেনগুলো এখন ছেড়ে দেওয়া হবে। উল্লাপাড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে ইতোমধ্যে চিলাহাটি এক্সপ্রেস ছাড়ার প্রস্তুতি নিয়েছে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, লাইনচ্যুতির কারণে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাজশাহীগামী বনলতা এক্সপ্রেস, পঞ্চগড়গামী একতা এক্সপ্রেস, রংপুর এক্সপ্রেস, বুড়িমারী এক্সপ্রেস, নীলসাগর এক্সপ্রেস, ঢাকাগামী চিলাহাটি এক্সপ্রেস, চিত্রা এক্সপ্রেস ও দ্রুতযান এক্সপ্রেসসহ কয়েকটি আন্তঃনগর ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকা ছিল।
দীর্ঘ সময় ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় বিভিন্ন স্টেশনে আটকে থাকা যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন। নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারায় অনেকের কর্মস্থল, চিকিৎসাসেবা ও জরুরি কার্যক্রম ব্যাহত হয়। তবে ট্রেন চলাচলের ক্লিয়ারেন্স পাওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও প্রয়োজনীয় সুপারিশ দিতে বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মো. মোশারেফ হোসেন ভূঁঞার নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ নাজিব কায়সার, বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (লোকো) শেখ আসিফ আহমেদ, বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (ক্যারেজ অ্যান্ড ওয়াগন) মো. রবিউল ইসলাম এবং বিভাগীয় সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী আহমেদ ইশতিয়াক জহুর।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটের দিকে রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী ৭৫৪ নম্বর সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনের ‘ঝ’ বগির চাকা শহীদ এম মনসুর আলী স্টেশনে লাইনচ্যুত হয়। এতে ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের রেলযোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় এবং বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রীবাহী ট্রেন আটকা পড়ে।

