
স্টাফ রিপোর্টার : আসন্ন ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজশাহী-৩ সংসদীয় আসনের নির্বাচনী মাঠ ক্রমেই সরগরম হয়ে উঠছে। এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদের গণসংযোগে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের গণসংযোগে স্লোগানে মুখর হয়ে উঠেছে বিভিন্ন এলাকা। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকাল থেকেই পবা উপজেলা কাটাখালী পৌরসভা ও পারিলা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালান তিনি।
সকাল ৮টায় শুরুতেই কাটাখালী বাজার এলাকায় গণসংযোগের মাধ্যমে প্রচারণা শুরু হয়। পরে পারিলা ইউনিয়নের আশরাফের মোড়, হাট রামচন্দ্রপুর ও পারিলা বাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়, সড়ক ও জনসমাগমস্থলে গিয়ে সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন জামায়াত প্রার্থী। এ সময় নেতাকর্মীরা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে স্লোগান দেন এবং ভোটারদের মধ্যে হ্যান্ডবিল ও লিফলেট বিতরণ করেন। পুরো এলাকায় দাড়িপাল্লার পক্ষে নির্বাচনী আমেজ ও উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়।
গণসংযোগকালে অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে নিজের নির্বাচনী অঙ্গীকার তুলে ধরেন। তিনি এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন এবং সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। অনেক ভোটারই তার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং নিজেদের সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।
এ সময় তিনি বলেন, ‘রাজশাহী-৩ আসনের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন, নিপীড়ন ও অন্যায়ের শিকার হয়েছে। মানুষ এখন এসব থেকে মুক্তি চায় এবং একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রত্যাশা করছে। সেই লক্ষ্যেই আমি কাজ করছি এবং ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাব।’ প্রচারণায় ভোটারদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণ তাকে ভোট দিয়ে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার সুযোগ দেবে বলেই তিনি আশাবাদী। ‘এর প্রতিফলন আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ব্যালটে দেখা যাবে,’ বলেন তিনি।
নিজের দীর্ঘ কর্মময় জীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে জামায়াত প্রার্থী বলেন, ‘আমি একটানা ২৮ বছর এই আসনের হড়গ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গী ছিলাম। ভবিষ্যতেও তাদের পাশে থেকে কাজ করতে চাই।’ ভোটারদের মধ্যে তার প্রতি আস্থা রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন এবং বলেন, ভোটাররা সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকেই নির্বাচিত করবেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
এদিকে নির্বাচন ঘিরে সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও আলোচনা ও প্রত্যাশা বাড়ছে। কাটাখালী এলাকার ভোটার শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন আমরা ভোটের উৎসব থেকে বঞ্চিত ছিলাম। ভোটের সময় এলেই ভয় ও অনিশ্চয়তা কাজ করত।’ তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘এবারের নির্বাচন যেন অন্তত সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে হয়—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’
সব মিলিয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে স্লোগান, গণসংযোগ ও ভোটারদের অংশগ্রহণে রাজশাহী-৩ আসনের নির্বাচনী মাঠ দিন দিন আরও মুখর হয়ে উঠছে।

