দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রচারণায় রাজশাহী-৩ আসনে জমে উঠেছে ভোটের মাঠ

স্টাফ রিপোর্টার : আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে দিন দিন উত্তপ্ত হয়ে উঠছে ভোটের মাঠ। প্রার্থীদের সরব উপস্থিতি, গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণায় এলাকাজুড়ে তৈরি হয়েছে নির্বাচনী আমেজ।

এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে পবা উপজেলার হরিপুর ও দামকুড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ ও প্রচার কার্যক্রম চালান জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ। তাঁর প্রচারণাকে ঘিরে এলাকাজুড়ে দেখা যায় উল্লেখযোগ্য জনসমাগম। এর আগে সকালে গণসংযোগ শুরুর আগে অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ নওহাটা কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত খায়রুল সরকারের জানাজায় অংশ নেন এবং মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।

গণসংযোগকালে দাড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে প্রচার মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সাধারণ ভোটারদের মাঝে দাড়িপাল্লা মার্কার লিফলেট বিতরণ করা হয় এবং প্রার্থী নিজে মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। শিশু, নারী, তরুণ ও বৃদ্ধ—সব শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পুরো এলাকায় নির্বাচনী পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। প্রার্থী এলাকাবাসীর খোঁজখবর নেন এবং তাদের সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন।

গণসংযোগকালে বক্তব্যে অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, “জামায়াতে ইসলামী হচ্ছে জনগণের দল। তাই আমরা ক্ষমতায় গেলে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান নেওয়া হবে।” সেই লক্ষ্যে তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদিন দাড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে সমাজ ও দেশ থেকে মাদক, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাং নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

এরপর পবা উপজেলার ডাঙ্গের হাট এলাকায় গণসংযোগকালে জনগণের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, নেতৃত্ব একটি আমানত। যোগ্যতা, সততা ও নৈতিকতার ভিত্তিতেই নেতৃত্ব নির্বাচিত হওয়া উচিত। অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবতার সেবার মাধ্যমে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনই জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির মূল লক্ষ্য।

রাজশাহীর উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজশাহী একটি কৃষিনির্ভর জেলা। পবা ও মোহনপুর উপজেলায় উৎপাদিত কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও বিপণনের জন্য রাজশাহীতে কৃষিভিত্তিক ইপিজেড গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি নতুন কলকারখানা স্থাপন, কর্মমুখী শিক্ষা বিস্তার এবং ক্লাস ফোর থেকে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক বিষয় হিসেবে চালুর প্রস্তাব দেন তিনি, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থভাবে গড়ে উঠতে পারে।

গণসংযোগ চলাকালে দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রতি মানুষের আগ্রহ ও সমর্থন লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই প্রার্থীকে শুভেচ্ছা জানান এবং ভোট দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। এলাকাবাসীর মতে, প্রচারণার শুরু থেকেই রাজশাহী-৩ আসনে ভোটের মাঠে প্রতিযোগিতার উত্তাপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

শেষে অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকল ভোটারকে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে দাড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই নির্বাচন জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *