অধিকার আদায়ের সংগ্রামে একুশ আমাদের পাথেয় – বিভাগীয় কমিশনার

তথ্য বিবরণী : রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ বলেছেন, আমাদের অধিকার আদায়ের যে সংগ্রামগুলো অতীতে ঘটে গেছে সে সংগ্রামে একুশকে আমরা পাথেয় মনে করি। স্বাধিকার আন্দোলনের যে সংগ্রাম, আমাদের স্বাধীনতার যে সংগ্রাম, সেক্ষেত্রে একুশ আমাদের পাথেয়। চব্বিশে যে গণ-অভ্যুত্থান ঘটেছে, সে ক্ষেত্রেও আমরা একুশকেই পাথেয় মনে করি। এসময় আমাদের র‌্যাপাররা ‘বায়ান্ন আর চব্বিশে তফাত কই রে? কথা ক’- এমন অনেক ছোট ছোট সুন্দর গান তৈরি করেছে।

শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জেলা প্রশাসন আয়োজিত ‘শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে ‘একুশ : জাতীয় জাগরণের প্রেরণা’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিভাগীয় কমিশনার বলেন, বায়ান্ন আমাদের এমন একটা অনুপ্রেরণার জায়গা, আমাদের অন্তরের অন্তস্তলে এমন এক মর্ম বেদনা, যা আমরা সারা জীবন বয়ে নিয়ে যাই, বংশপরম্পরায় প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। পঁচাত্তর বছর পরেও আমাদের স্মৃতি এখনও তরতাজা, আবেগ এখনও তরতাজা। কারণ বাঙালি একটি আবেগপ্রবণ জাতি। ঐতিহ্যকে আমরা এমনভাবে লালন করি যেমন ভাবে আমার সন্তানকে লালন করি। এই কারণে আমরা দেখি, আমাদের স্মৃতিসৌধ-শহিদ মিনারে বয়স্কদের যেমন আগমন ঘটে আমাদের ছোট সন্তানদেরও তেমনি আগমন ঘটে। এইসব প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের জাতিকে একটি ঐকতানে আবদ্ধ রাখে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে পেতে আমাদের অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে। আমাদের অনেক রক্তক্ষরণ ঘটাতে হয়েছে। আমাদের অনেক জীবন দান করতে হয়েছে। এই জন্য বলা হয়, আমরা একটি গৌরবোজ্জ্বল জাতির উত্তরসূরি। আমরা গর্ব করি আমাদের উত্তরসূরিদের নিয়ে যারা আমাদের একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের জন্য জীবন দিয়েছেন। এসময় তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অন্তরেও একুশের অনুপ্রেরণা অনুরণিত রয়েছিল বলে উল্লেখ করেন।

আজ সকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘একুশ: জাতীয় জাগরণের প্রেরণা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় ভাষা সৈনিক মোশাররফ হোসেন আকুন্জি বক্তৃতা করেন।- ছবি পিআইডি

প্রত্যেকেরই মুখের ভাষা গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করে বজলুর রশীদ বলেন, বাঙালি হিসেবে আমাদের ওপর দায়িত্ব জন্মেছে, পৃথিবীতে যতগুলো ভাষা আছে, সবগুলো ভাষার সংরক্ষণ এবং ভাষার প্রতি সম্মান জানানোর। আমাদের বাংলাদেশে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অনেক ছোট ছোট ভাষা আছে, বাংলায় অনেক উপকথা আছে, অঞ্চল ভিত্তিক অনেক কথ্য ভাষা আছে, সেগুলো সংরক্ষণ করা এবং সে বিষয়ে গবেষণা করা আমাদের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, আমাদের দেশকে যদি সত্যিকার অর্থে গড়ে তুলতে চাই, বিশ্বে আমাদের দেশকে যদি সত্যিকার অর্থেই সম্মানিত জায়গায় দেখতে চাই, তবে বায়ান্নর যে শিক্ষা আমাদের সেই শিক্ষা নিতে হবে। বায়ান্নর যে মন্ত্র তা আমাদের প্রত্যেকেরই জানতে হবে এবং মানতে হবে। এসময় তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আমাদের ঐতিহ্যের বাইরে না গিয়ে আমাদের জাতিসত্তাকে পরিচালিত করার আহ্বান জানান।

জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত ডিআইজি দীন মোহাম্মদ, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ড. মো. জিল্লুর রহমান এবং পুলিশ সুপার নাইমুল হাসান। ভাষা সৈনিক মোশাররফ হোসেন আকুঞ্জি অনুষ্ঠানে হৃদয়গ্রাহী বক্তৃতা করেন।

আলোচনা সভা শেষে শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়।

এর আগে ২১ ফেব্রুয়ারি দিবসের শুরুতে রাত বারোটা এক মিনিটে সোনাদিঘি এলাকায় নবনির্মিত শহিদ মিনারে ভাষা শহিদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুসহ বিভাগীয় কমিশনার, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপার পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরে বিভিন্ন সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, বেসরকারি দপ্তর ও সংস্থা, বিভিন্ন রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক-স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহিদদের গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে।

এদিন সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভবনসমূহে অর্ধনমিতভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *