নির্বাচনি প্রচারের প্রতিটি ধাপে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি থাকবে : জেলা প্রশাসক

স্টাফ রিপোর্টার : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনি প্রচারের প্রতিটি ধাপে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি থাকবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার আফিয়া আখতার। তিনি বলেন, নির্বাচনকে সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য করতে আচরণবিধি প্রতিপালনের কোনো বিকল্প নেই। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় রিটার্নিং অফিসার আফিয়া আখতার বলেন, নির্বাচনি প্রচারণা হোক তা মাঠে বা অনলাইনে—সবই নির্বাচন আচরণবিধির আওতাভুক্ত। নির্বাচনি ক্যাম্প, বিলবোর্ড, পোস্টার কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা—সব ক্ষেত্রেই নির্ধারিত নিয়ম মেনে তথ্য প্রদান ও অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে। কোনো ধরনের আচরণ বিধির অনিয়ম বরদাশত করা হবে না বলে তিনি সতর্ক করে দেন।

স্বাগত বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মহিনুল হাসান প্রার্থীদের উদ্দেশে আচরণবিধি প্রতিপালন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রার্থীদের কর্মপরিকল্পনা যথাসময়ে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। ইশতেহার পাঠের স্থান ও সময় নির্ধারণ, পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত নিয়ম, নির্বাচনী এজেন্ট ও পোলিং এজেন্ট নিয়োগের বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।পাশাপাশি জনসভা, পথসভা ও সমাবেশ আয়োজনের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করার বিষয়েও তিনি গুরুত্ব দেন।

মতবিনিময় সভায় জানানো হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে এই জেলার ছয়টি নির্বাচনি আসনে অংশগ্রহণকারী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকায় স্থাপিত সব নির্বাচনি ক্যাম্প ও বিলবোর্ডের সংখ্যা এবং সেগুলোর সুনির্দিষ্ট অবস্থান রিটার্নিং অফিসারের কাছে দাখিল করতে হবে। এ তথ্যের মাধ্যমে প্রচারণার সীমা নির্ধারণ ও তদারকি কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণার ক্ষেত্রেও কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।

প্রার্থীদের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নাম, ভেরিফাইড আইডির তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট লিঙ্ক লিখিতভাবে রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দিতে হবে। সভায় বলা হয়, ভুয়া আইডি, বিভ্রান্তিকর তথ্য কিংবা উসকানিমূলক কনটেন্ট নির্বাচন পরিবেশের জন্য হুমকি; এসব বিষয়ে প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে।

সভা শেষে প্রার্থীরা প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে নির্বাচনি কার্যক্রম পরিচালনার আশ্বাস দেন। জেলা প্রশাসন রাজশাহী জানিয়েছে, নিয়মতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ প্রচারণা নিশ্চিত করা গেলে ভোটারদের আস্থা বাড়বে এবং নির্বাচন হবে শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *