রাজশাহী-১ আসনে চূড়ান্ত লড়াই বিএনপি-জামায়াতের

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) সংসদীয় আসনে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সরাসরি মুখোমুখি লড়াইয়ে নামছেন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মেজর জেনারেল (অব.) শরিফ উদ্দিন এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।

রাজশাহী-১ আসনটি দীর্ঘদিন ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ভিআইপি সংসদীয় আসন হিসেবে পরিচিত। এই আসনটি একসময় বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত থাকলেও বিগত কয়েকটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দখল করে নেয়। তবে গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আওয়ামী লীগের নির্বাচনী মাঠে সক্রিয়তা নেই বললেই চলে। একই সঙ্গে জাতীয় পার্টির অবস্থানও দুর্বল। ফলে এবারের নির্বাচনে মূল লড়াইটি সীমাবদ্ধ হয়ে এসেছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে।

বিএনপির প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) শরিফ উদ্দিন প্রয়াত ব্যারিস্টার আমিনুল হকের ছোট ভাই। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রেসিডেন্ট গার্ড, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সামরিক সচিব এবং বর্তমানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে রাজশাহী-১ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই তিনি গোদাগাড়ী ও তানোর জুড়ে ব্যাপক সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করেছেন।

স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান, গত ১৫ বছর ধরে যারা মামলা-হামলা ও রাজনৈতিক নির্যাতনের কারণে নিষ্ক্রিয় ছিলেন, শরিফ উদ্দিন তাদের সংগঠিত করছেন। তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় কমিটি পুনর্গঠন, বাড়ি বাড়ি গণসংযোগ এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে তিনি নির্বাচনী মাঠে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন। প্রয়াত ব্যারিস্টার আমিনুল হকের পরিবারের প্রতি মানুষের দীর্ঘদিনের আস্থা শরিফ উদ্দিনের পক্ষে বড় শক্তি হিসেবে কাজ করছে।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন দলের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। তার বাড়ি গোদাগাড়ী পৌরসভার মহিষালবাড়ী এলাকায়। তিনি এর আগে ১৯৮৬ সালে এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকেই একক প্রার্থী ঘোষণা করে জামায়াত নির্বাচনী মাঠে নেমেছে।

প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই জামায়াতের নেতাকর্মীরা তানোর ও গোদাগাড়ীতে সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় রয়েছেন। তারা মসজিদ-মাদরাসায় দোয়া মাহফিল, গণসংযোগ ও সভা-সমাবেশের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। ইসলামি শাসনব্যবস্থার ধারণা তুলে ধরে ভোটারদের সমর্থন চাইছেন অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৬২ হাজার ২৪২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩০ হাজার ৫১০ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৩১ হাজার ৭২৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৩ জন। নতুন ভোটার রয়েছেন ৭ হাজার ৫৪২ জন। এই আসনে চরাঞ্চলের ভোটার ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভোট জয়-পরাজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে এই দুই প্রার্থীর মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও স্থানীয় ভোটাররা। নির্বাচনী মাঠে এখন বিএনপি ও জামায়াতই সবচেয়ে সক্রিয়। প্রচারণা, গণসংযোগ ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে রাজশাহী-১ আসনে ভোটের উত্তাপ দিন দিন বাড়ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *