স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী নগরের নামোভদ্রা লেকপাড় বস্তিসহ বিভিন্ন বস্তি এলাকায় বসবাসরত ভূমিহীন ও নিম্ন আয়ের মানুষদের পুনর্বাসন ছাড়া বস্তি উচ্ছেদ বন্ধের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। আজ বেলা ১২টায় নামোভদ্রা বাস্তুহারা সার্বিক উন্নয়ন সংগঠন, বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরাম ও গ্রিন কোয়ালিশনের একটি প্রতিনিধিদল এই স্মারকলিপি প্রদান করেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, উন্নয়ন ও নগর ব্যবস্থাপনার নামে কোনো মানুষকে গৃহহীন করা যায় না। সংবিধান, মানবাধিকার এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার আলোকে প্রত্যেক নাগরিকের মর্যাদাপূর্ণ বাসস্থানের অধিকার রয়েছে। তাই পুনর্বাসনের ব্যবস্থা ছাড়া কোনো বস্তি উচ্ছেদ মানবিক, ন্যায়সঙ্গত ও টেকসই সমাধান হতে পারে না। পুনর্বাসন নিশ্চিত না করে, উচ্ছেদ বন্ধ করার দাবি জানিয়ে বস্তিবাসীদের আবাসন সংকট সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
গ্রিন কোয়ালিশন রাজশাহী অঞ্চলের সভাপতি, নদী ও পরিবেশ গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী, নামোভদ্রা বাস্তুহারা সার্বিক উন্নয়ন সংগঠনের সভাপতি মো. বাচ্চু মিয়া ও বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি মো. আতিকুর রহমান এর যৌথ স্বাক্ষরিত স্বারকলিপি রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার বরাবর প্রদান করা হয়েছে। বিভাগীয় কমিশনারের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার শাহানা আক্তার জাহান। স্মারকলিপির অনুলিপি রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম এর কাছে প্রদান করা হয়েছে।
এছাড়াও পৃথক স্মারকলিপি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, ভূমি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, বাংলাদেশ রেলওয়ে (পশ্চিমাঞ্চল) এর মহাব্যবস্থাপক, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম আজাদ ববাবর প্রেরণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) বস্তিশুমারী ও ভাসমান লোকগণনা-২০১৪ অনুযায়ী রাজশাহী শহরে ছোট বড় মিলে প্রায় ১০৪টি বস্তিতে ৩৯ হাজারের বেশি মানুষ বসবাস করে, বর্তমানে তা প্রায় লক্ষাধিক হয়েছে। এনাদের বড় অংশ নদীভাঙন, খরা, বন্যা, ভূমিহীনতা, কর্মসংস্থানের সংকট ও দারিদ্র্যের কারণে গ্রাম ছেড়ে নগরে আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু নগরে এসেও তারা নিরাপদ বাসস্থান, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক নিরাপত্তার মতো মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। বস্তিবাসীদের অধিকাংশই রিকশাচালক, নির্মাণশ্রমিক, গৃহকর্মী, হকার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক এবং দিনমজুর। এই মানুষগুলো নগরের অর্থনীতি ও সেবাখাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও নিরাপদ আবাসনের অধিকার থেকে বঞ্চিত।
রাজশাহীকে সত্যিকার অর্থে মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জলবায়ুসহনশীল টেকসই নগর হিসেবে গড়ে তুলতে নগর দরিদ্র মানুষের অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়া এবং এই মানুষগুলোর নাগরিক অধিকার অবিলম্বে নিশ্চিত করতে স্মারকলিপিতে ৫ দফা দাবি জাানানো হয়েছে। দাবিসমূহ হলো- পুনর্বাসন নিশ্চিত না করে নামোভদ্রা লেকপাড় বস্তিসহ রাজশাহীর কোনো বস্তি উচ্ছেদ করা যাবে না; রাজশাহীর সকল বস্তিবাসীর জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও পরিবেশবান্ধব আবাসনের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে; বস্তিবাসীদের পানি, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা সেবা নিশ্চিত করতে হবে; উচ্ছেদ সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্তের আগে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ ও মতামত নিশ্চিত করতে হবে; নগর দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আবাসন অধিকারকে স্থানীয় ও জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় অগ্রাধিকার দিতে হবে। এই দাবিসমূহ একটি ন্যায়, মানবিক এবং সবার জন্য মর্যাদাপূর্ণ নগর জীবনের পক্ষে নাগরিক আহ্বান।