স্টাফ রিপোর্টার, পুঠিয়া : ইতিহাসের গায়ে সময়ের ছাপ। প্রাচীন স্থাপত্যের অলংকরণে এখনও জেগে আছে বাংলার জমিদারি ঐতিহ্যের স্মৃতি। সেই ঐতিহ্যের টানেই মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহীর পুঠিয়া রাজবাড়ী পরিদর্শনে এলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত Brent T. Christensen। রাজবাড়ীর বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখে তিনি মুগ্ধতার কথা জানান। পাশাপাশি ঐতিহাসিক এই স্থাপনার উন্নয়ন ও সংরক্ষণে সহযোগিতার আশ্বাসও দেন।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুর সোয়া ২টার দিকে প্রতিনিধি দলের সদস্যদের নিয়ে পুঠিয়া রাজবাড়ীতে পৌঁছন রাষ্ট্রদূত। এ সময় তিনি রাজবাড়ী প্রাঙ্গণে অবস্থিত জাদুঘর, রানীরঘাট, গোবিন্দ মন্দির, আন্নিক মন্দির, শিবমন্দির-সহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা ঘুরে দেখেন। স্থাপনাগুলির নির্মাণশৈলী, ইতিহাস এবং সংরক্ষণ কার্যক্রম সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘‘পুঠিয়া রাজবাড়ী বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। এর আরও উন্নয়ন ও সংরক্ষণ প্রয়োজন। ভবিষ্যতে মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।’’
রাষ্ট্রদূতের সফরকে ঘিরে রাজবাড়ী এলাকায় ছিল বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। স্থানীয়দের অনেকেই তাঁকে এক নজর দেখতে ভিড় করেন। রাজবাড়ী ঘুরে দেখার সময় রাষ্ট্রদূতের মুখে ছিল উচ্ছ্বাসের ছাপ। ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলির প্রতি তাঁর আগ্রহও চোখে পড়েছে উপস্থিতদের।
সফরকালে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান, পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান, পুঠিয়া থানার ওসি ফরিদুল ইসলাম, হাইওয়ে থানার ওসি মোজাম্মেল হক এবং রাজবাড়ী রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
স্থানীয়দের মতে, আন্তর্জাতিক মহলে পুঠিয়া রাজবাড়ীর পরিচিতি বাড়াতে এ ধরনের সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটির সংরক্ষণ ও পর্যটন বিকাশেও নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে পারে।