বগুড়া প্রতিনিধি : বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহারে ৬ বছর বয়সী রাখা মনি নামে এক শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে প্রতিবেশী দম্পতিসহ ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে সান্তাহার পৌর শহরের সাহেবপাড়া মহল্লায় অভিযুক্ত আমজাদের বাড়ি থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত শিশুটি উপজেলার সান্তাহার পৌর শহরের সাহেবপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও অটোভ্যান গ্যারেজের কর্মচারী আবু রায়হানের মেয়ে।
আটকরা হলেন সাহেবপাড়ার আবুলের ছেলে আমজাদ হোসেন (৪২), তার স্ত্রী বন্যা বেগম (৩০) ও প্রতিবেশী আব্দুল কাদেরের ছেলে বাবু (৪০)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিশুটি নূরানী মাদরাসার ছাত্রী ছিল।
প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার আছরের আজানের পর প্রতিবেশী আমজাদের বাড়ির সামনে দিয়ে সরকারি কলেজ এলাকায় প্রাইভেট পড়তে যাচ্ছিল। এ সময় শিশুটিকে একা পেয়ে আমজাদের বাড়িতে নিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর বস্তাবন্দি করে লাশটি মেঝেতে ফেলে রাখা হয়। ওই দিন বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত তার স্বজন ও প্রতিবেশীরা সম্ভাব্য সব জায়গায় শিশুটিকে খুঁজতে থাকেন।
একপর্যায়ে প্রতিবেশী আমজাদের বাড়িতে শিশুটির বস্তাবন্দি মরদেহ দেখতে পান তারা। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা আমজাদ ও তার স্ত্রীকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আরেক প্রতিবেশী বাবুকেও আটক করে পুলিশ। এরপরই এলাকাবাসী আটককৃতদের বাড়ি-ঘরে হামলা চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে ফাঁড়ি পুলিশের পরিদর্শক ও কয়েকজন সদস্য আহত হন।
নিহত শিশুটির বাবা রায়হান জানান, আমার মেয়ের কানে একজোড়া সোনার দুল ছিল। এই লোভে আমার এইটুকু মেয়েকে তারা হত্যা করেছে। এখন একটাই চাওয়া, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হোক।
সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক খন্দকার ফরিদ হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সোনার দুলের লোভেই শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে। শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরো এক নারীকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।