অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান অস্থিরতার মধ্যেই আজ সোমবার ২৫ মে, (৮ জিলহজ) থেকে সৌদি আরবে শুরু হয়েছে হজের আচার-আনুষ্ঠানিকতা। গতকাল রোববার রাত থেকে হজযাত্রীরা মক্কা থেকে মিনায় যেতে শুরু করেছেন বলে জানিয়েছে সৌদির হজ ও ওমরাহ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
মক্কা থেকে বাসে চেপে বা পায়ে হেঁটে মিনার উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে পবিত্র কাবা ৭ বার তাওয়াফ বা প্রদক্ষিণ করেছেন হজযাত্রীরা। হজ ও ওমরাহ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, এবারের হজে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১৫ লাখ মানুষ সৌদিতে এসে জড়ো হয়েছেন। এছাড়া সৌদির কয়েক লাখ হজযাত্রীও যোগ হয়েছেন তাদের সঙ্গে।
ইসলাম ধর্মের প্রধান ৫টি ভিত্তির মধ্যে হজ অন্যমত। প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলিম নর-নারীর জন্য জীবনে অন্তত একবার হজ করা ফরজ বা আবশ্যিক।
হজের আচার-আনুষ্ঠানিকতা চলে ৬ দিন। ঈদুল আজহার ৩ দিন আগে হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় এবং শেষ হয় ঈদুল আজহার ২ দিন পর।
সৌদিতে ঈদুল আজহা হবে আগামী ২৭ মে। সেই হিসেবে ২৯ মে এবারের হজের শেষ দিন।
সৌদির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে, হজযাত্রীদের ক্যাম্পে যাতায়াত সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং পবিত্র স্থানগুলোতে প্রদত্ত সেবার মান পর্যবেক্ষণের জন্য একটি সমন্বিত ব্যবস্থা চালু করেছে। এছাড়াও ২০২৬ সালের হজ মৌসুমের জন্য অনুমোদিত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে একাধিক উদ্যোগ। এসব উদ্যোগের মধ্যে মধ্যে রয়েছে হজযাত্রীদের আবাসন ও আতিথেয়তা কেন্দ্র থেকে মিনা পর্যন্ত যাতায়াতের তত্ত্বাবধান, ক্যাম্পগুলোতে নির্বিঘ্ন প্রবেশ নিশ্চিত করা, দিকনির্দেশনা ও সচেতনতামূলক সেবা প্রদান এবং হজযাত্রীদের তাদের নির্ধারিত স্থানে পৌঁছাতে সহায়তা করা।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে মন্ত্রণালয় মিনার ভেতরে হজযাত্রীদের থাকা, খাওয়া ও পরিবহনসেবার সার্বিক প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছে। একই সঙ্গে যেকোনো সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত করে সমাধানের জন্য মাঠপর্যায়ের নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এসব প্রচেষ্টা পবিত্র স্থানগুলোতে হজযাত্রীদের অবস্থানের শুরুর দিনগুলোতে সেবার মান বৃদ্ধি করতে সাহায্য করছে।
জিলকদ মাসের শুরু থেকে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় ও সহযোগিতার মাধ্যমে বিভিন্ন সেবাকেন্দ্রে ৮৩ হাজারের বেশি পরিদর্শন ও মাঠপর্যায়ের সফর সম্পন্ন করেছেন হজ ও ওমরাহ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। হাজিদের বাসস্থান, আতিথেয়তা কেন্দ্র, তাঁবু এবং সব ধরনের সেবাকেন্দ্র ছিল পরিদর্শনের আওতাভুক্ত ছিল।
সূত্র : সৌদি গেজেট