স্টাফ রিপোর্টার : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি ছিলেন বাংলার কৃষক-প্রজা ও বঞ্চিত মানুষের মুক্তির অগ্রদূত-একজন অসাম্প্রদায়িক সমাজ সংস্কারক। তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকার কারণেই বাংলার কৃষক সমাজ জমিদারি শোষণ, মহাজনী ঋণের ফাঁদ এবং শিক্ষাবঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ খুঁজে পেয়েছিল।
শনিবার রাজধানীতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, তাঁর পারিবারিক ও রাজনৈতিক চেতনার সঙ্গে শেরে বাংলার নাম ও আদর্শ গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। মন্ত্রীর দাদা ছিলেন উত্তর বরিশালের কৃষক-প্রজা পার্টির সাধারণ সম্পাদক এবং শেরে বাংলার ঘনিষ্ঠ সহচর। ছোটোবেলা থেকেই শেরে বাংলার আদর্শ ও কর্মময় জীবনের গল্প শুনে তিনি রাজনৈতিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। তিনি বলেন, ১৯৩৭ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে অবিভক্ত বাংলার প্রথম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেরে বাংলা আবির্ভূত হন। ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে তিনি উপমহাদেশের মুসলমানদের রাজনৈতিক ইতিহাসে অনন্য স্থান অধিকার করেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে শেরে বাংলার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার সরাসরি দৃশ্যমান না থাকলেও তাঁর সমাজ সংস্কারমূলক দর্শন আজও প্রাসঙ্গিক। তিনি শেরে বাংলা ফাউন্ডেশনকে শুধু দান-অনুদানমূলক কর্মকাণ্ডে সীমাবদ্ধ না থেকে আরো বৃহৎ পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি ফাউন্ডেশনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা সাবেক সচিব সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ ও সভাপতি মোঃ আবু হানিফসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
রামিসা হত্যা জাতির জন্য ‘জাতীয় ব্যথা ও জাতীয় লজ্জা’ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনাকে ‘জাতীয় ব্যথা ও জাতীয় লজ্জা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি আজ রাজধানীর পল্লবীতে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী বলেন, রামিসাসহ এ ধরনের নৃশংস ঘটনাগুলো অত্যন্ত মর্মান্তিক ও দুঃখজনক। তিনি বলেন, পুরো জাতি এ ঘটনায় শোকাহত এবং ক্ষুব্ধ। জাতির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিহত শিশুর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা, সহানুভূতি ও শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, দেশের প্রচলিত আইনের আওতায় দ্রুততম সময়ে অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করতে সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
সময় তথ্যমন্ত্রী গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, এ ধরনের ঘটনায় জনগণের মধ্যে যে ক্ষোভ ও সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে, তা গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকার ফল। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের তৈরি জনমতের ভিত্তিতেই সরকার আরও কার্যকর আইন ও ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে, যাতে সমাজ থেকে এ ধরনের ঘৃণ্য অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব হয়।