অনলাইন ডেস্ক : বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেবল জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য নয়, এটি বাংলাদেশকে পুনর্গঠন করার নির্বাচন। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ঠাকুরগাঁওয়ে নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ তাদের দীর্ঘদিন ধরে কেড়ে নেওয়া রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োগ করবে। গত এক যুগে জনগণের ওপর যারা শাসন করেছে, তারা শুধু নিজেদের স্বার্থ দেখেছে। এবারের নির্বাচনে জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে নিজের অধিকার ফিরিয়ে আনবে। যারা জীবন দিয়েছেন বা বিভিন্নভাবে নির্যাতিত হয়েছেন, তাদের মূল্যায়ন কখনো বৃথা যাবে না। এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের পুনর্গঠনের কাজ শুরু হবে।
তিনি আরও বলেন, গত এক দশকে বাংলাদেশের মানুষ তাদের কথা বলার অধিকার ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। নারী ও যুবকরা অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়েছে। এবারের নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা শুধু প্রতিনিধির নির্বাচনের বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকব না, পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি, শিক্ষাব্যবস্থা ও সামাজিক স্থিতিশীলতাও পুনর্গঠনের পথে এগিয়ে নেব।
নারী ক্ষমতায়নকে জাতীয় উন্নয়নের অংশ হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্ধেক জনসংখ্যা নারী। তাদের কর্মসংস্থানে সম্পৃক্ত না করলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সময় মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা বিনা মূল্যে করা হয়েছিল। আজ লাখ লাখ নারী শিক্ষার আলোয় আলোকিত। আমরা চাই তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে। নারীকে স্বাবলম্বী করলে দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নও নিশ্চিত হবে।
তারেক রহমান আরও জানান, ক্ষমতায় গেলে দেশের সাধারণ মানুষকে স্বল্প খরচে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষাব্যবস্থা, শিল্প ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার উদ্যোগ নেব। শিল্প, চা ও কল কারখানা চালু করে কর্মসংস্থান তৈরি করব। যুবকদের জন্য আইটি পার্ক ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি শুরু করব। হিমাগার, মেডিকেল কলেজ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে। নারীদের স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড দেওয়া হবে। কৃষকদের ঋণ মওকুফ করা হবে এবং সরকার রেজিস্টার্ড এনজিও থেকে নেওয়া ঋণ পরিশোধ করবে।
জনসভায় তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় এক দল অন্য দলের বিপক্ষে কথা বললে জনগণের কোনো উপকার হবে না। জনগণ জানতে চায় তারা তাদের জন্য কী করবে। আমরা জনগণের কল্যাণে কাজ করার পরিকল্পনা নিয়ে জনগণের সামনে দাঁড়িয়েছি। দেশের মানুষকেই আমরা ক্ষমতার মূল উৎস মনে করি। আমাদের লক্ষ্য যেখানে মা-বোনেরা নিরাপদে চলাচল করবে, তরুণরা কর্মসংস্থানে থাকবে, সবাই চিকিৎসা পাবে, এবং দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক সেবা শক্তিশালী হবে।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, ধর্ম বা বর্ণ নির্বিশেষে যোগ্যতার ভিত্তিতে বিচার হবে। ধানের শীষ বিজয়ী হলে তাদের দায়িত্ব থাকবে জনগণকে সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে। এবারের নির্বাচন শুধু প্রতিনিধির নয়, দেশের পুনর্গঠনের নির্বাচনেরও প্রতীক।