স্টাফ রিপোর্টার : জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র চার দিন বাকি। শেষ সময়ে নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। পিছিয়ে নেই পবা–মোহনপুর আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন।
শনিবার দুপুরে পবার নওহাটা এলাকা থেকে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন তিনি।
গণসংযোগকালে মিলন বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে পবা–মোহনপুরবাসীর সঙ্গে রয়েছেন। এ এলাকার জনগণের চাহিদা, সমস্যা ও করণীয় সম্পর্কে তিনি সম্পূর্ণ অবগত। তাই নির্বাচিত হলে অগ্রাধিকারভিত্তিতে এসব সমস্যার সমাধানে কার্যক্রম গ্রহণ করবেন।
তিনি বলেন, পবা ও মোহনপুর উপজেলার অধিকাংশ রাস্তাঘাট ভাঙাচোরা ও চলাচলের অনুপযোগী। জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে নির্বাচনের ছয় মাসের মধ্যেই রাস্তাঘাটের উন্নয়নকাজ শুরু করবেন তিনি।
মিলন আরও বলেন, পবা–মোহনপুর একটি কৃষিপ্রধান এলাকা। এখানে ধান, পান, মাছসহ বিভিন্ন ফসল ব্যাপকভাবে উৎপাদিত হয়। কিন্তু সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ জন্য তিনি কৃষি হাব স্থাপন, বীজ সংরক্ষণাগার গড়ে তোলা এবং একটি কৃষি ইপিজেড প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেবেন।
তিনি জানান, নির্বাচিত হলে এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এবং উদ্যোক্তা তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি কৃষি কলেজ ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এবং বিসিক-২ এর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেওয়া হবে।
মাদক প্রসঙ্গে মিলন বলেন, পবা–মোহনপুর এলাকা থেকে মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা হবে। মাদকের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। তিনি বলেন, বিএনপি চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও ভূমি দখলের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। যারা এসব অপকর্মে জড়িত, তাদের সাবধান করে দিয়ে নির্বাচিত হলে আইনের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষা নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মিলন বলেন, শিক্ষা একটি জাতির মেরুদণ্ড। বর্তমান সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে। তিনি প্রকৃত ইতিহাসভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন। একই সঙ্গে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণি থেকে ক্রীড়া শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্ব তুলে ধরে মিলন বলেন, প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে আধুনিকায়ন করা হবে এবং পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে, যাতে গ্রামীণ মানুষ বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারে।
পানি দূষণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ও দূষিত পানি খালের মাধ্যমে বারনই নদীতে পড়ছে। এই দূষিত পানি কৃষকেরা সেচের কাজে ব্যবহার করায় ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশ ও এলাকার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
মিলন আরও বলেন, একটি কুচক্রী মহল নির্বাচন বানচাল করতে ঢাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে। তবে তাদের এই ষড়যন্ত্র সফল হবে না। নির্বাচনী প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং আগামী ১২ তারিখেই এর ফলাফল আসবে। তিনি সবাইকে ষড়যন্ত্রে না জড়িয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
এ সময় বিভিন্ন এলাকার ভোটাররা বলেন, যত ষড়যন্ত্রই হোক না কেন, উন্নয়নের স্বার্থে তারা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে বিএনপিকে ভোট দেবেন। ধানের শীষের পক্ষে তারা ছিলেন, আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন বলে জানান তারা।
গণসংযোগকালে বিএনপিপন্থী আইনজীবী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।