নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে কুইজ প্রতিযোগিতা

স্টাফ রিপোর্টার : নিরাপদ খাদ্য সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ভোক্তা অধিকার বিষয়ে প্রাথমিক ধারণা তৈরির লক্ষ্যে রাজশাহীতে কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস উপলক্ষে রাজশাহী জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ-এর যৌথ আয়োজনে এই কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিযোগিতার ভেন্যু ছিল রিভার ভিউ কালেক্টরেট স্কুল। এই কুইজ প্রতিযোগিতায় রিভার ভিউ কালেক্টরেট স্কুলের পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণির মোট ১৮০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতায় নিরাপদ খাদ্য, খাদ্যে ভেজাল, স্বাস্থ্যঝুঁকি, খাদ্য সংরক্ষণ ও ভোক্তার করণীয় বিষয়ে নানা প্রশ্ন উপস্থাপন করা হয়। এতে শিক্ষার্থীরা আনন্দের সঙ্গে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পায়।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতা শেষে দশজন বিজয়ী শিক্ষার্থীকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে অতিথিবৃন্দ তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

কুইজ প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে রিভার ভিউ কালেক্টরেট স্কুলের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রিজওয়ান আহমেদ। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী অর্নিলা মাহমুদ এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেন দশম শ্রেণির মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী রুহুল আমিন।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) টুকটুক তালুকদার। তিনি বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, বরং সমাজের প্রতিটি নাগরিককে এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে পরিবার ও সমাজে নিরাপদ খাদ্যের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নিরাপদ খাদ্য অফিসার মো. ইয়ামিন হোসেন। তিনি বলেন, খাদ্যে ভেজাল রোধে সচেতনতা সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা তৈরি হলে ভবিষ্যতে একটি সুস্থ প্রজন্ম গড়ে উঠবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রিভার ভিউ কালেক্টরেট স্কুলের প্রধান শিক্ষক মনোয়ারা পারভীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহন আহমেদ এবং সোনার দেশ পত্রিকার সম্পাদক আকবারুল হাসান মিল্লাত।

অনুভূতি প্রকাশ করে প্রথম স্থান অর্জনকারী রিজওয়ান আহমেদ বলেন, এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তিনি নিরাপদ খাদ্য সম্পর্কে অনেক নতুন তথ্য জানতে পেরেছেন এবং ভবিষ্যতে এই জ্ঞান বাস্তব জীবনে কাজে লাগাতে চান। দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী অর্নিলা মাহমুদ বলেন, ছোট বয়সেই এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কুইজে অংশ নিতে পেরে তিনি গর্বিত এবং আগামী দিনেও এ ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *