স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রাথমিক ধাপ পেরোলেন তাসনিম জারা

অনলাইন ডেস্ক : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-৯ সংসদীয় আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পথে প্রথম ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন ডা. তাসনিম জারা। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক এই জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহ করে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছেন।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) রাত ৯টায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে এক পোস্টের মাধ্যমে এ তথ্য প্রকাশ করেন তাসনিম জারা।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিদ্যমান বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার মোট নিবন্ধিত ভোটারের অন্তত ১ শতাংশের সমর্থনসূচক স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে হয়। সেই হিসেবে ঢাকা-৯ আসনে প্রার্থিতা নিশ্চিত করতে ডা. তাসনিম জারাকে ন্যূনতম ৪ হাজার ৬৯৩ জন ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (২৮ ডিসেম্বর) তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই স্বাক্ষর সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করেন। রাজধানীর খিলগাঁও ও বাসাবো এলাকায় বিশেষ বুথ স্থাপন করে সাধারণ ভোটারদের কাছ থেকে এই সমর্থন সংগ্রহ করা হয়। সোমবার দুপুরের মধ্যেই নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি স্বাক্ষর সংগৃহীত হয় বলে তার নির্বাচনি পরিচালনা টিমের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেন।

স্বাক্ষর সংগ্রহের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর সোমবার বিকেলে ডা. তাসনিম জারা রাজধানীর সেগুনবাগিচায় অবস্থিত ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে সংগৃহীত স্বাক্ষরের তালিকা ও মনোনয়নপত্র জমা দেন।

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই অর্জনের কৃতিত্ব সাধারণ ভোটার ও সমর্থকদের উৎসর্গ করেন।

সেখানে তাসনিম জারা লেখেন, ‘এই অর্জন আমার নয়, বরং আপনাদের সবার। যারা তীব্র শীত উপেক্ষা করে খুব ভোরে কিংবা গভীর রাতে বাবা-মা, ভাই-বোন, বন্ধু-বান্ধব এমনকি সন্তানদের নিয়ে স্বাক্ষর দিতে এসেছেন, এটি তাদেরই সাফল্য।’

স্বাক্ষর সংগ্রহের সময় সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের কিছু ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘এমন একজন মায়ের দেখা পেয়েছি যিনি হাঁপাতে হাঁপাতে বুথে এসেছিলেন। কারণ তার মেয়ে আমেরিকা থেকে ফোন করে তাকে বলেছেন কেন তিনি এখনো ভোট দেওয়ার স্বাক্ষর দিতে বুথে যাননি।’

তিনি আরও জানান, কলেজ পড়ুয়া তরুণরা তাৎক্ষণিকভাবে স্বেচ্ছাসেবী দল গঠন করে মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে ৫০টি করে স্বাক্ষর সংগ্রহ করে এনেছেন। এছাড়া অনেক সাধারণ মানুষও নিজে থেকেই এগিয়ে এসেছেন।

তাসনিম জারা লেখেন, ‘একজন চাচা আমাদের কথা শুনে নিজে থেকেই এগিয়ে এসে ১০টি স্বাক্ষর সংগ্রহ করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন এবং বলেন, “দেখি কিছু করতে পারি কি না”।’

ব্যতিক্রমী আরও কিছু অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘মা-মেয়ের একটি দল নিজেরা স্বাক্ষর দেওয়ার পর আরও ফর্ম নিয়ে নিজেদের মহল্লা থেকে স্বাক্ষর সংগ্রহ করে এনেছেন। এক দাদু সন্ধ্যায় এসে দোয়া করে গেলেন এবং ২০টি স্বাক্ষর সংগ্রহের প্রতিশ্রুতি দিলেন। পরদিন সকালে তিনি ফর্মগুলো ফেরত দিয়ে আমাকে বললেন, “দেখ, আমি আমার কথা রেখেছি”।’

সাধারণ মানুষের এমন অভাবনীয় সমর্থন ও ভালোবাসায় আপ্লুত ডা. তাসনিম জারা বলেন, ‘মানুষের এই আবেগ ও ভালোবাসার কাছে তিনি কৃতজ্ঞ এবং এই প্রাপ্তি তাকে নির্বাচনের পথে আরও বেশি দায়বদ্ধ করে তুলেছে।’

ডা. তাসনিম জারা এর আগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। সম্প্রতি তিনি দল থেকে পদত্যাগ করেন এবং ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা দেন।-ইত্তেফাক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *