স্টাফ রিপোর্টার : নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘটিত আলোচিত আব্দুর রহিম হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৫।
র্যাব সূত্র জানায়, গত ২৪ নভেম্বর সোমবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে আত্রাই থানাধীন দিঘিরপাড় গ্রামে জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি বে-আইনি জনতা পূর্বপরিকল্পিতভাবে আব্দুর রহিমের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে। এ সময় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলায় গুরুতর আহত হন আব্দুর রহিম। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় আত্রাই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়, যার মামলা নম্বর ১৪, তারিখ ২৬ নভেম্বর ২০২৫।
ঘটনার পরপরই র্যাব-৫, রাজশাহী একাধিক আভিযানিক দল গঠন করে ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও আসামিদের গ্রেপ্তারে মাঠে নামে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে অবশেষে তাদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
সোমবার ২২ ডিসেম্বর সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে র্যাব-৫ এর সিপিসি-২ নাটোর ক্যাম্পের নেতৃত্বে র্যাব-১ এর সহযোগিতায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কাশিমপুর থানাধীন মনপুড়া মোড়, লতিফপুর এলাকা থেকে মামলার প্রধান দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মোঃ আরিফ হোসেন (৩০) এবং মোঃ আব্দুল খালেক (৬৫)। তাদের বাড়ি নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার দিঘিরপাড় গ্রামে।
র্যাবের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, নিহত আব্দুর রহিমের সঙ্গে আসামি আব্দুল খালেকের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। ঘটনার রাতে ওই বিরোধের জেরে আব্দুল খালেকের নেতৃত্বে আসামিরা বাঁশের লাঠি, লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দলবদ্ধভাবে হামলা চালায়। হামলায় আরিফ হোসেনের হাতে থাকা রডের আঘাতে আব্দুর রহিম গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে প্রথমে আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৫ নভেম্বর বিকেলে তার মৃত্যু হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামি ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে র্যাব। তাদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গাজীপুরের বাসন থানার মাধ্যমে আত্রাই থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।